অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫
সহজসরল কথার জন্য ভিডিও বানাতেন রিপন মিয়া। এই সরলতার কারণে তার ভক্তের সংখ্যা বেড়েছিল প্রচুর। তার ভিডিও দেখলেই মানুষ বলে উঠতেন, এটাই বাস্তবতা, আমি রিপন ভিডিও, হা হা হা।’
রিপন ছিলেন গ্রামের একজন কাঠমিস্ত্রি। মাঝে মাঝে গ্রামের পরিবেশে ভিডিও করতেন এবং ছড়া বলতেন। তবে এভাবে আয় করা সম্ভব হয়নি। তাই তিনি চাকরির খোঁজ শুরু করেন। ঢাকার কয়েকজন ব্যক্তি তাকে চাকরি দেন, কিন্তু রিপন মিয়া পিয়নের ওই চাকরি বেশিদিন করতে পারেননি এবং ফিরে যান গ্রামে। অনেকদিন পর তিনি নতুনভাবে আলোচনায় আসেন রান্নার ভিডিওর মাধ্যমে।
গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়েছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়া। তাকে ঘিরে এসেছে দুই বিপরীত চিত্র—এক দিকে টেলিভিশন প্রতিবেদনে উঠে আসা মা-বাবাকে অবহেলার অভিযোগ, অন্য দিকে ছড়িয়ে পড়া আবেগঘন ভিডিও। এই দুই চিত্র মুহূর্তে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে তাকে।
জনপ্রিয় এই কনটেন্ট নির্মাতা বর্তমানে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে আলাদা বসবাস করছেন এবং মা-বাবার খরচ বহন করছেন না। তার মায়ের কণ্ঠে উঠে এসেছে অভিমান, খুব কষ্ট করে মানুষ করছি, এখন পরিচয়ও দেয় না। আমরা গরিব, পরিচয় দিলে যদি ওর মান-ইজ্জত না থাকে।
এই বক্তব্য ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিকমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকেই রিপনকে ‘অহংকারী’, ‘অবজ্ঞাকারী সন্তান’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
সামাজিকমাধ্যমে ‘রিপন ভিডিও’ নামে পরিচিত এই কনটেন্ট ক্রিয়েটর নিজেকে এখনও অবিবাহিত বলে দাবি করছেন। তবে গ্রামের বাড়িতে তার মা-বাবা জানিয়েছেন, বহু আগেই পারিবারিকভাবে বিয়ে করেছেন তারা রিপনকে। তার দুই সন্তান রয়েছে।
রিপন মিয়ার বিষয় নিয়ে কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাহিদ রনি জানান, রিপন মিয়া বিবাহিত। ১২ বছর আগে বিয়ে করেন। তার দুই সন্তান আছে। বড় ছেলের বয়স ১১ বছর, মেয়ের বয়স ৬ বছর। ছেলের নাম রাফী, মেয়ের নাম রোজা মণি। কিন্তু দেশের এক টিভি চ্যানেলে নিজেকে অবিবাহিত দাবি করেন।
রনি আরও বলেন, রিপন নতুন জায়গা কিনে বাড়ি করেছেন। জমি কিনতে এবং বাড়ি নির্মাণ করতে খরচ হয়েছে প্রায় ৫০ লাখ টাকা। তিনি জানান, রিপন মিয়াকে ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করছেন সজীব নামের একজন, যিনি রিপনের ম্যানেজার। ম্যানেজার সজীবের কারণে বাবা-মায়ের সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছে।
রাহিদ রনি আরও জানান, রিপনের ফেসবুক, টিকটক, ইউটিউব সব নিয়ন্ত্রণ করেন সজীব। সব মাধ্যম থেকে আয় ও স্পনসর বাবদ গড়ে ৩ লাখ টাকা আয় করেন রিপন। কোন মাসে ১০ লাখের বেশি আয় হয়। তবে এই আয় থেকে রিপন পান মাত্র ১০ ভাগ, বাকিটা যায় সজীবের পকেটে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সামাজিকমাধ্যমে চলছে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা। অনেকেই বলছেন, খ্যাতি ও পরিচিতি পাওয়ার পর পরিবারকে অস্বীকার করা অনৈতিক এবং অমানবিক।
খবরওয়ালা/শরিফ