খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে খোলা বাজারে খাদ্যশস্য বিক্রয় (ওএমএস) কার্যক্রমের আওতায় সরকারি আটা কিনতে রাত থেকেই ভিড় জমাচ্ছে মানুষ। কেউ মধ্যরাত থেকে, কেউবা ভোরে এসে লাইনে দাঁড়ান। অথচ আটা বিক্রি শুরু হয় সকাল ৯টায়। এই অপেক্ষা যেন এখন তাদের জীবনের এক নিয়মিত অংশে পরিণত হয়েছে।
রাতের অন্ধকারে নারী-পুরুষ অপেক্ষা করেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। প্রতিদিন মাত্র ১০০ জন ক্রেতা পান পাঁচ কেজি করে আটা। যারা আগে পৌঁছাতে পারেন না, তারা দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও খালি হাতে ফিরে যান।
উপজেলা খাদ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চিলমারী উপজেলায় তিনজন ওএমএস ডিলারের মাধ্যমে প্রতিদিন ১ টন আটা বিক্রি করা হচ্ছে প্রতি কেজি ২৪ টাকায়। বাজারে যেখানে একই আটা ৫০ টাকায় বিক্রি হয়। তাই নিম্নবিত্ত ও হতদরিদ্র পরিবারের সদস্যরা সাশ্রয়ী দামে আটা কিনতে অনেক রাতেই লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েন।
সুবিধাভোগীরা জানান, সকাল ৯টায় শুরু হয় বিক্রি, তাই আগেভাগেই আসতে হয়। না হলে সিরিয়ালে জায়গা পাওয়া যায় না। রাতে আসা ঝুঁকিপূর্ণ হলেও বাধ্য হয়েই আসতে হয়। বাজারে যেখানে আটা ৫০ টাকা কেজি, এখানে অর্ধেক দামে পাওয়া যায়—সেজন্যই কষ্ট করে অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই।
থানাহাট ইউনিয়নের ডেমনাপাড়ার তোহেরা বেগম বলেন, আমরা রাতে এসে লাইনে দাঁড়াই, কোনো দিন পাই, আবার কোনো দিন খালি হাতে ফিরতে হয়।
আরেক সুবিধাভোগী আমেনা বেগম বলেন, এত রাতে এসে যদি না পাই, পরিবারে সবাই মন খারাপ করে। কখনো পুরো পরিবারকেই আসতে হয়। রাতে রাস্তাঘাটও নিরাপদ নয়।
ওএমএস ডিলার আমির হোসেন বলেন, অনেকেই রাতে এসে লাইনে দাঁড়ালেও সবাইকে আটা দেওয়া সম্ভব হয় না, কারণ বরাদ্দ সীমিত। বরাদ্দ বাড়ানো গেলে কেউ খালি হাতে ফিরবেন না।
চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবুজ কুমার বসাক জানান, চাহিদা বাড়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে দেখা হবে।
খবরওয়ালা/টিএসএন