খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫
রংপুরের পীরগাছা উপজেলার কান্দিরহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন মাত্র একজন শিক্ষার্থী। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সেই শিক্ষার্থীও ফেল করেছেন। অথচ কলেজ সেকশনে রয়েছেন ১২ জন শিক্ষক।
অধ্যক্ষের দাবি, ১০৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হলেও এবার এইচএসসি পরীক্ষায় মাত্র একজন অংশগ্রহণ করেছিলেন। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) দিনাজপুর বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, সেই শিক্ষার্থীও ফেল করেছেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা গেছে। অনেকেই বলছেন, প্রতিষ্ঠানটির এমন করুণ অবস্থার জন্য প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও শিক্ষকেরা দায়ী।
জানা গেছে, কান্দিরহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজটি ১৯৫৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর স্কুল সেকশন এমপিওভুক্ত হলেও কলেজ সেকশন এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। ২০১১ সালে কলেজ শাখা চালু করা হয়। কলেজটিতে বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগে ১২ জন শিক্ষক থাকলেও এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় শুধু মানবিক বিভাগ থেকে একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। বাকি দুই বিভাগে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি ছিল না। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, সেই একমাত্র শিক্ষার্থী ফেল করেছেন।
এ বিষয়ে কান্দিরহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ এ বি এম মিজানুর রহমান বলেন, ‘কলেজটি দীর্ঘদিনেও মঞ্জুরিপ্রাপ্ত না হওয়ায় শিক্ষকেরা কোনো বেতন পান না। এ জন্য শিক্ষকেরা কেউ কলেজে আসেন না। শিক্ষার্থী ভর্তির ব্যাপারে তাঁরা কাজ করেন না। আমি একাই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। প্রতিবছর নিজের পকেট থেকে টাকা খরচ করছি। এবারও ১ লাখ টাকা খরচ করে ১০৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করিয়েছি। স্বীকৃতির আশায় এত কিছু করলাম, তা-ও লাভ হচ্ছে না। তবে আমাদের স্কুল সেকশনের ফলাফল বরাবরই ভালো।’
পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মো. রাসেল বলেন, ‘এবার সারা দেশের পাসের হার কম। কেননা সরকার আগের অবস্থার চেয়ে একটা পরিবর্তন এনেছে। আগের মতো গণহারে পাস, এ বিষয়টি সরকার পছন্দ করছে না। মূলত কোয়ালিটি এডুকেশন নিয়ে সবাই পাস করুক, সেভাবে একটা মূল্যায়ন পদ্ধতিতেও পরিবর্তন এসেছে। এটা ঠিক, পড়াশোনার গুণগত মান উন্নত হয়নি। এগুলো নিয়ে আমরা কাজ করব। কান্দিরহাট কলেজটি যেহেতু মঞ্জুরি পায়নি, তাই হয়তো তারা শিক্ষার্থী পায় না। বেতন না পেলে শিক্ষকেরা ভালো শিক্ষা দেবেন না, এটাই স্বাভাবিক। তবু তাঁরা যেহেতু একটা ভিশন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছেন। তাদেরকে আমাদের সাহায্য করতে হবে। শিক্ষার মান উন্নয়ন ও প্রতিষ্ঠানটির এই সংকট থেকে উত্তরণে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
খবরওয়ালা/এসআর