অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫
ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ওষুধশিল্পের কাঁচামাল বাবদ কমপক্ষে ২০০ কোটি টাকার প্রত্যক্ষ ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ওষুধশিল্প সমিতি। এই কাঁচামাল পুড়ে যাওয়ার ফলে ভবিষ্যতে প্রায় ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার কোটি টাকার ওষুধ উৎপাদনে বাধা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
সোমবার (অক্টোবর) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইএবি) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওষুধশিল্প সমিতির পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ওষুধশিল্প সমিতির মহাসচিব মো. জাকির হোসেন বলেন, বেলা ১১টা পর্যন্ত দেশের শীর্ষস্থানীয় ৩২টি কোম্পানি তাদের ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক হিসাব দিয়েছে, যেখানে ২০০ কোটি টাকার বেশি কাঁচামাল পুড়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। বাংলাদেশে মোট ৩০৭টি ওষুধ কোম্পানির মধ্যে ২৫০টি সচল রয়েছে। বাকি কোম্পানিগুলো হিসাব দিলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।
জাকির হোসেন আরও জানান, একটি ওষুধ উৎপাদনে ১০-১২টি থেকে শুরু করে ৫৩টি পর্যন্ত উপকরণের প্রয়োজন হয়। ২০০ কোটি টাকার কাঁচামাল পুড়ে যাওয়ার কারণে দেশের ওষুধ উৎপাদনে বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে পারে, যার ফলে ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার কোটি টাকার ওষুধ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে সরবরাহ ব্যবস্থায় সমস্যা সৃষ্টির সম্ভাবনা নেই।
অগ্নিকাণ্ডের সময় অনেক বিমানকে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে পাঠানো হয়েছিল। জাকির হোসেন বলেন, সেসব বিমানে থাকা ওষুধের কাঁচামাল শেষ পর্যন্ত ঠিকঠাক আছে কিনা, তা নিয়েও উদ্বেগ আছে। ওষুধের কাঁচামাল সংরক্ষণে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি, কিন্তু চট্টগ্রামে স্থানান্তরিত কাঁচামালগুলির জন্য সেখানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নাও থাকতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইএবি সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। তিনি বলেন, কার্গো ভিলেজের আগুনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সবমিলিয়ে ১২ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এই বিশাল ক্ষতির জন্য কার্গো ভিলেজের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আগুন শনাক্ত ও প্রতিরোধ নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের ‘চরম ব্যর্থতা’ দায়ী।