খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫
গাইবান্ধার এসআই মনিরুজ্জামান সম্প্রতি আলোচনায় এসেছেন নিজের স্ত্রীকে দিয়ে পুলিশ সুপার (এসপি) ও ওসির বিরুদ্ধে মামলা করিয়ে। জানা গেছে, স্বামীকে বিভাগীয় শাস্তির হাত থেকে রক্ষা করতে গত ২২ অক্টোবর গাইবান্ধা জেলা আমলী আদালতে মনিরুজ্জামানের স্ত্রী কাজলি খাতুন বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলার পর বিষয়টি তদন্তে নেমেছে পুলিশ সদর দপ্তর।
পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া অ্যান্ড প্ল্যানিং শাখার সহকারী মহাপরিদর্শক এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, পুলিশের একটি চেইন অব কমান্ড রয়েছে। কিন্তু এসআই মনিরুজ্জামান সেটির প্রতি কোনো সম্মান দেখাননি। বরং নিজেকে বাঁচাতে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করেছেন। এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তর তদন্ত করছে।
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২৫ মার্চ লালমনিরহাটের পাটগ্রাম থানার বুড়িমারি গ্রামের তারিকুজ্জামান তুহিন নামে এক ব্যক্তি গাইবান্ধার পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করেন। অভিযোগে বলা হয়, গাইবান্ধা সদর থানার এসআই মনিরুজ্জামান ‘বাংলা খবর ১৯৭১’ নামের একটি ভুয়া ফেসবুক পেজ খুলে তার নামে কুৎসা রটাচ্ছেন। অভিযোগের পর পাটগ্রাম থানা পুলিশ তুহিনকে আটক করলেও পরে ভুল বুঝতে পেরে ছেড়ে দেয়।
পরে পুলিশ সুপার নিশাত এঞ্জেলা ওসি শাহিনুর ইসলামের মাধ্যমে এসআই মনিরুজ্জামানকে তলব করেন। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তার মোবাইল ফোন ও লেনোভো ল্যাপটপ জব্দ করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ঢাকায় সিআইডি সদর দপ্তরে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে তাকে গাইবান্ধা থেকে রাজশাহী রেঞ্জে বদলি করা হয় এবং পরে জয়পুরহাটে পদায়ন দেওয়া হয়।
দীর্ঘদিন পর, গত ২২ অক্টোবর, মনিরুজ্জামানের স্ত্রী কাজলি খাতুন গাইবান্ধা সদর আমলী আদালতে মোবাইল ও ল্যাপটপ আটকে রাখার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় এসপি, ওসি এবং তার স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগকারী তারিকুজ্জামানকে আসামি করা হয়। আদালত তদন্তের দায়িত্ব দেয় পিবিআইকে।
পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রকৃত ঘটনা হলো এসআই মনিরুজ্জামান ভুয়া পেজ ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে টার্গেট করে মিথ্যা তথ্য প্রচার করতেন এবং পরে সেসব পোস্ট মুছে ফেলার জন্য অর্থ আদায় করতেন। তদন্তকে ভিন্নখাতে নিতে তিনি স্ত্রীকে দিয়ে এই মামলা করিয়েছেন।
গাইবান্ধা সদর থানার ওসি শাহিনুর ইসলাম বলেন, “তার ফোন ও ল্যাপটপ কেউ আটকে রাখেনি। তার সামনেই জিডি করে সেগুলো সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে। বিভাগীয় শাস্তি এড়াতেই হয়তো এমন কৌশল নিয়েছেন।”
জেলা পুলিশ সুপার নিশাত এঞ্জেলা বলেন, “বিষয়টি যেহেতু এখন পুলিশ সদর দপ্তর দেখছে, তাই আমার নিজস্ব কোনো মন্তব্য নেই।”
খবরওয়ালা/টিএসএন