খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫
শর্বরী দাশগুপ্ত ছিলেন বাংলাদেশের যাত্রা ও চলচ্চিত্র জগতের এক বলিষ্ঠ, মুগ্ধকর ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী। এক সময় সমগ্র দেশের যাত্রাপ্রেমী দর্শকমহলে তাঁর নাম ছিল শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে উচ্চারিত।
ঐতিহাসিক, সামাজিক ও ভাবধারামূলক অসংখ্য যাত্রাপালায় তাঁর প্রাণবন্ত ও সাবলীল অভিনয় দর্শকদের হৃদয় জয় করেছিল। তাঁর শিল্পীসত্তা শুধু যাত্রামঞ্চেই নয়, সমৃদ্ধ করেছে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ভুবনকেও।
তাঁর প্রকৃত নাম ছিল রিনা রানী। ১৯৭০ সালে গীতশ্রী অপেরা যাত্রাদলের মাধ্যমে তিনি অভিনয় জীবন শুরু করেন।
পরে ১৯৭৪ সালে যাত্রার কিংবদন্তি নটসূর্য তুষার দাশগুপ্তকে বিবাহের পর তাঁর গঠিত অপেরাগ্রুপ তুষার অপেরায় যোগ দেন এবং গ্রহণ করেন নতুন নাম— শর্বরী দাশগুপ্ত।
এরপর তিনি যাত্রার গণ্ডি পেরিয়ে ঢালিউড চলচ্চিত্রেও নিজের অবস্থান তৈরি করেন।
তাঁর অভিনীত জনপ্রিয় চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে —
‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’, ‘মনে পড়ে তোমাকে’, ‘বাবা কেন চাকর’ প্রভৃতি।
ব্যক্তিজীবনে তুষার-শর্বরী দম্পতির এক কন্যা ও এক পুত্র — কন্যা লিপিকা দাশগুপ্ত (পপি), যিনি বেসরকারি এনজিও প্রতিষ্ঠান ‘ধারা’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক এবং নিজেও একজন সুঅভিনেত্রী।
পুত্র শশী দাশগুপ্ত, পেশায় একজন চিকিৎসক।
চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে শর্বরী দাশগুপ্ত ২০১৭ সালে ‘জিয়া গোল্ড মেডেল’ পদকে ভূষিত হন।
তাঁর জন্ম ও মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট তারিখ অজানা থাকলেও, তাঁর শিল্পকর্ম, অভিনয় ও ঐতিহ্য আজও অম্লান, অক্ষয়।
শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করি এই অনন্যা শিল্পীকে — যিনি ছিলেন যাত্রার প্রাণ, অভিনয়ের অমর আলো।