খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫
গাজীপুরের টঙ্গীর টিঅ্যান্ডটি কলোনি জামে মসজিদের খতিব মুফতি মুহিব্বুল্লাহ মিয়াজী (৬০) স্বীকার করেছেন যে, তিনি নিজেই অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন। রবিবার রাতে আতাউর রহমান বিক্রমপুরীর একটি ফেসবুক লাইভে যোগ দিয়ে তিনি বিষয়টি প্রকাশ করেন।
লাইভটি শুরু হয় রাত ১২টার দিকে। সে সময় ফোনে যুক্ত হন মুহিব্বুল্লাহর মেয়ে। তিনি জানান, তার বড় ভাই ফোনে জানিয়েছেন— তাদের বাবা স্বীকার করেছেন, পুরো ঘটনাই ছিল তার নিজের পরিকল্পনা।
পরে রাত আড়াইটার দিকে বিক্রমপুরী আবার লাইভে আসেন এবং পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন। পুলিশ তাকে জানায়, চাইলে তিনি মসজিদের ভেতরে যেতে পারেন, তবে সর্বোচ্চ একজন মুরিদ সঙ্গে নিতে পারবেন। কিন্তু তিনি সেই শর্তে রাজি হননি। ঠিক তখনই বিক্রমপুরীর ফোনে কল আসে মুহিব্বুল্লাহর ছোট ছেলের কাছ থেকে— তিনিও একজন আলেম।
এরপর ফোনে সরাসরি কথা বলেন মুফতি মুহিব্বুল্লাহ নিজে। তিনি বলেন, “আমি নিজেই সব করেছি। নিজের পরিকল্পনায় পঞ্চগড়ে গিয়েছি, গুম হওয়ার অভিনয় করেছি, ঘটনাটি ভাইরাল করেছি। তাই তোমরা আর এই বিষয় নিয়ে বাড়াবাড়ি করো না।”
সামাজিক মাধ্যমে তিনি ‘মাওলানা মুফতি মুহিব্বুল্লাহ মাদানী’ নামেই পরিচিত।
এর আগে তিনি দাবি করেছিলেন, ২২ অক্টোবর সকাল ৭টার দিকে টঙ্গীর শিলমুন এক্সিস লিংক সিএনজি ফিলিং অ্যান্ড কনভার্সন সেন্টারের সামনে থেকে তাকে অপহরণ করে একটি অ্যাম্বুলেন্সে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরদিন পঞ্চগড়ে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার হওয়ার কথাও তিনি নিজেই সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছিলেন।
এছাড়া তিনি অভিযোগ করেছিলেন, অপহরণের আগে টানা কয়েকদিন ধরে উড়ো চিঠিতে হুমকি পেয়েছিলেন এবং অপহরণের পর একদিন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। এখন তার নিজের স্বীকারোক্তির পর পুরো ঘটনাটি যে সাজানো ছিল, তা স্পষ্ট হয়ে গেছে।