খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো হাউসের স্ট্রং রুমে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। ভাঙা ভল্টে পুলিশ ৮০টি অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল সংখ্যক ম্যাগাজিন এবং কার্তুজ উদ্ধার করেছে। চুরির পর এসব মালামাল পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সিসি ক্যামেরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকার সুযোগ নিয়ে অপরাধী চক্র স্ট্রং রুমের তালা কেটে লুটপাট চালিয়েছে। তবে চুরির মাধ্যমে মোট কত পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র বা মালামাল লোপ পেয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বাংলাদেশ বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্ত্রণালয়ে এ ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন। তদন্ত কমিটি এখনও চুরির পরিমাণ নির্ধারণ করতে প্রতিবেদন জমা দেয়নি।
২৮ অক্টোবর সকালে চুরির খবর প্রকাশিত হয়। ঢাকার বিমানবন্দর থানাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপত্তা জোরদার করে। ২৯ অক্টোবর ভাঙা স্ট্রং রুমের সামনে পাঁচজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে মালামালের তালিকা করা হয়। তালিকায় দেখা যায়, ৬৭টি অত্যাধুনিক পিস্তল, ১২টি শর্টগান, ১টি অ্যাসল্ট রাইফেল, পিস্তলের ১৩৮টি খালি ম্যাগাজিন, ৯ মিমি ব্ল্যাংক কার্টিজ ৯৯১ পিস, শর্টগান ও রাইফেলের খালি ম্যাগাজিন জব্দ করা হয়েছে। আগ্নেয়াস্ত্রের অধিকাংশ অংশ অক্ষত থাকলেও কয়েকটি পিস্তলের প্লাস্টিক বাট, ব্যারেলের নিচের স্প্রিং ও ম্যাগাজিন কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কার্গো হাউসের স্ট্রং রুমে সাধারণত মূল্যবান জিনিসপত্র, জরুরি নথিপত্র, স্বর্ণ, হীরা এবং আগ্নেয়াস্ত্রসহ সহজে বহনযোগ্য উচ্চমূল্যের পণ্য রাখা হয়। এসব মালামাল বের করতে হলে বিভিন্ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয় এবং একাধিক কর্মকর্তার স্বাক্ষর প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিমানবন্দর ও স্ট্রং হাউসের কার্যক্রম জানাশোনা থাকা একটি শক্তিশালী চক্র এই চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের চিঠিতে বলা হয়েছে, ২৪ অক্টোবর দুপুরে ভল্টের ইনভেন্ট্রি তালিকা তৈরি হয় এবং তালা সিলগালা করা হয়। ২৮ অক্টোবর সকালে ভল্টের তালা লোপ পেয়েছে। বিমান নিরাপত্তা বিভাগের প্রহরা থাকা সত্ত্বেও ধ্বংসপ্রাপ্ত আমদানি কার্গোতে বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল না, সিসি ক্যামেরা কাজ করছিল না।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, ২৯ অক্টোবর বিভিন্ন সংস্থার উপস্থিতিতে স্ট্রং রুমে রক্ষিত আগ্নেয়াস্ত্রের তালিকা তৈরি করা হয় এবং বিমানবন্দর থানা পুলিশ তা হেফাজতে নেয়। তদন্ত কমিটি এখন মালামালের সম্পূর্ণ হিসাব যাচাই করছে।
চুরির আগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ঢাকা কাস্টম হাউস কমিশনারকে চিঠি পাঠিয়েছিল, যাতে স্ট্রং রুমের মূল্যবান মালামাল নিরাপদে হেফাজতে নেওয়া যায়। চিঠিতে বলা হয়েছে, আগ্নেয়াস্ত্র ও অন্যান্য মূল্যবান মালামাল কাস্টমস হেফাজতে নেওয়া সঠিক হবে।
খবরওয়ালা/টিএসএন