খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫
জিয়াউল হক মুক্তা
< প্রথম ক্যু >
একক “জাতীয় দল” বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগ বা বাকশাল পলিটব্যুরোর পাঁচ নম্বর সদস্য ও বাকশাল মন্ত্রিসভার চার নম্বর সদস্য বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্বে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কতিপয় মেজরের উদ্যোগে সপরিবারে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধু-হত্যা বিচার-আদালতের বিচারক কাজী গোলাম রসুল ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর ঘোষিত রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেন যে সেনা ও গোয়েন্দা বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতায় এ ক্যু সংগঠিত হতে পেরেছিল। একে তিনি সেনাবাহিনীর জন্য “চিরস্থায়ী কলঙ্ক” হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। বিচার আদালতের সাক্ষ্য-ভাষ্য এবং ওই সময়ের সেনা-কর্মকর্তাদের লেখা আত্মজীবনীমূলক বইপত্রে প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করলে প্রমাণিত হয় সেনাপ্রধানের অযোগ্যতা ও ব্যর্থতা এবং সেনাবাহিনীর প্রায় সকল উর্ধতন কর্মকর্তার সম্মতি এবং সংশ্লিষ্টতার মধ্য দিয়ে সংঘটিত হয়েছে এ ক্যু।
স্বাধীন দেশের সমাজ-সংস্কৃতি-রাজনীতি-জনপ্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনী ও গোয়েন্দা বিভাগে ১৯৭২ সালের শুরু থেকে পুনর্বাসিত পাকিস্তানপন্থা এবং সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাদের ব্যক্তি ও গোষ্ঠি স্বার্থের এক অভূতপূর্ব সমন্বয় ঘটে এ ক্যু’র মাধ্যমে। এখানে কেবল সবচেয়ে “ভালো মানুষ” হিসেবে চিত্রিত সেনাকর্মকর্তা খালেদ মোশাররফকে উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করা যাক। বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতাকারী প্যারামিলিটারি ফোর্স রক্ষীবাহিনীর উপপরিচালক কর্নেল আনোয়ার উল আলম তার “রক্ষীবাহিনীর সত্য-মিথ্যা” বইয়ে জানাচ্ছেন যে ১৬ আগস্ট সকাল ১০টায় খালেদ মোশাররফ কোন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ১৫ আগস্টের ঘটনাবলী সংঘটিত হয়েছে তা ব্যাখ্যা করে তাকে ও তার আরেক সহকর্মীকে বলছেন, “শহীদ/সারোয়ার, আমি জানি তোমরা দেশপ্রেমিক। কিন্তু আমাদের এটা [অর্থাৎ বঙ্গবন্ধু-হত্যা] করতে হয়েছে। কারণ আমরা এই দেশে কোন রাজতন্ত্র কায়েম করতে দিতে পারি না।” আনোয়ার উল আলমের সহকর্মী রক্ষীবাহিনীর আরেক উপপরিচালক কর্নেল সারোয়ার হোসেন মোল্লা তার “রক্ষীবাহিনীর অজানা অধ্যায়” বইয়ে ঠিক একই তথ্য জানাচ্ছেন।
< দ্বিতীয় ক্যু >
১৫ আগস্ট ক্যু হিসেবে সফল হবার পর প্রাপ্তিযোগের হিসেবে-নিকেশে জিয়াউর রহমান লাভবান হলেন আর খালেদ মোশাররফ ও তার অনুসারীরা নিজেদের বঞ্চিত মনে করলেন। দীর্ঘ প্রস্তুতি নিয়ে ২ নভেম্বর দিবাশেষের রাতে ৩ নভেম্বর খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে আরেকটি ক্যু সংগঠিত হলো। এদিন ভোরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে চার জাতীয় নেতার হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হলেও সেটা না জানার ভান করে বঙ্গভবন বনাম সেনানিবাসের দিনমান দরকষাকষির মধ্য দিয়ে বঙ্গভবনে আশ্রয় নেয়া আগস্ট হত্যাকাণ্ডের খলনায়কদের ভিসার ব্যবস্থা করে বিশেষ বিমানের আয়োজন করে রাতে নিরাপদে দেশত্যাগের সুযোগ করে দেয়া হলো।
বঙ্গভবনে অবস্থান করে মোশতাক-খালেদের দরকষাকষি শুরু হলো প্রমোশন ও ক্ষমতা নিয়ে; খালেদ নিজের জন্য সেনাপ্রধানের পদ আদায় করে নিলেন, আর সরকার-ক্ষমতায় আরোহনের জন্য উপায় খুঁজতে লাগলেন। ৩ নভেম্বরের ক্যু’র সহযোগী সেনাকর্মকর্তাগণ খালেদ মোশাররফকে যে বেতার ভাষণ লিখে দিয়েছিলেন তা তিনি জাতির সামনে উপস্থাপন করলেন না। বরং বেতার-টেলিভিশন-বিমানবন্দর ও অপরাপর যোগাযোগ অবকাঠামো বন্ধ থাকলো। দেশবাসী চার দিন ধরে জানতে পারলেন না সেনানিবাস ও বঙ্গভবনে কী হচ্ছে, কারা দেশ পরিচালনা করছেন বা দেশে আদৌ কোনো সরকার আছে কিনা। দেশব্যাপী জনমনে তীব্র উৎকণ্ঠা দেখা দিল— দেশে কী হচ্ছে!
< কাউন্টার-ক্যু’র পরিকল্পনা >
তথ্যটি বেশ পুরোনো কিন্তু চিত্তাকর্ষক। কিন্তু এ নিয়ে কেউ কখনও কোথায়ও কোনো আলোচনা করেননি যে ১৯৭৫ সালের ৬ নভেম্বর তারিখে— ৩ নভেম্বর ক্যু’র মাত্র তিন দিনের মাথায় পরবর্তী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে— ওই ক্যু’র মূল সংগঠক কর্নেল গফফার ও মেজর নাসিররা রক্ষীবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার নূরুজ্জামানের নেতৃত্বে কর্নেল সাফাশাত জামিলকে সাথে নিয়ে খালেদ মোশাররফের বিরুদ্ধে আরেকটি ক্যু সংগঠনের পরিকল্পনা করেন। এ পরিকল্পনার বিস্তারিত বিবরণী পাওয়া যাবে ৩ নভেম্বরের ক্যু’র অন্যতম সংগঠক অবসরপ্রাপ্ত মেজর নাসির উদ্দিনের স্মৃতিকথা “গণতন্ত্রের বিপন্ন ধারায় বাংলাদেশের সশস্ত্রবাহিনী” বইয়ের ১৩৬–১৩৭ নম্বর পৃষ্ঠায়।
< এক ক্যু’র ভেতরে আরেক ক্যু >
অন্যদিকে, আরও চিত্তাকর্ষক ব্যাপার হলো, ঠিক একই সময় খালেদ মোশাররফও রাষ্ট্রপ্রধান হবার জন্য আবারও ক্যু’র পরিকল্পনা করছিলেন এবং ঢাকায় শক্তিসমাবেশ করছিলেন। এ বিষয়ে রক্ষিবাহিনীর উপপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল সারোয়ার হোসেন মোল্লার বই থেকে সেনাবাহিনীর তথ্য ও সেনাকর্মকর্তাদের বিশ্লেষণটি দেখা যাক। ব্রিগেডিয়ার সাবিহউদ্দিন এবং অপরাপর সেনাকর্মকর্তাদের বক্তব্যের মর্মার্থ হিসেবে কর্নেল সারোয়ার জানাচ্ছেন যে ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ যদি শুধু সেনাপ্রধান হতে চাইতেন, তা তিনি সহজেই হতে পারতেন। কিন্তু তার আসল উদ্দেশ্য ছিল সেনা-প্রধান হবার সাথে সাথে রাষ্ট্র-প্রধানের পদও দখল করা। বিশ্লেষণ বলছে যে সে লক্ষ্যে খালেদ মোশাররফ ব্যক্তিগত শক্তি সুসংহত করতে সচেষ্ট ছিলেন।
সেনাকর্মকর্তাদের এমন চিন্তার পেছনে প্রথম কারণ হলো— ৩ নভেম্বর সকালেই ক্যু-এর সপক্ষে কারণগুলো ব্যাখ্যা করে একটি ঘোষণাপত্র লিখে খালেদ মোশাররফের হাতে দেয়া হয় বেতারে পাঠ করার জন্য; বলা হয়, যাতে করে দেশের মানুষ অন্ধকারের মধ্যে না থেকে প্রকৃত অবস্থাটা জানতে পারেন। কিন্তু বারবার অনুরোধের পরও তিনি তা বেতারে পাঠ করেনি। শেষের দিকে এক সময় খালেদ জানান যে ঘোষণার কপিটি তিনি আর খুঁজে পাচ্ছেন না। আরেকটি লক্ষ্যণীয় বিষয় হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধের সময়কার সেনাবাহিনীতে খালেদের অনুগত দ্বিতীয় সেক্টরের অফিসারদের ঢাকায় একত্রিত করা। অনেক পর্যবেক্ষক এমনও মত পোষণ করেন যে খালেদ মোশাররফ ৩ নভেম্বরের ক্যু’র ভেতরে আরেকটা ক্যু সংঘটনের চেষ্টা করছিলেন। ২ থেকে ৬ নভেম্বর সারা দেশের মানুষ থাকে অন্ধকারে। ঢাকা শহর পরিণত হয় গুজবের শহরে।
< মহান সিপাহী-জনতার মহান অভ্যুত্থান >
এভাবে [১] খন্দকার মোশতাক, মেজর রশিদ ও মেজর ফারুক গংদের ১৫ আগস্টের ক্যু, ও [২] খালেদ মোশাররফ ও শাফায়াত জামিলদের ৩ নভেম্বরের ক্যু’র পর— আবারও, [৩] ব্রিগেডিয়ার নুরুজ্জামানের নেতৃত্বে আরেকটি ক্যুর পরিকল্পনা, এবং [৪] ক্ষমতারোহনের জন্য ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে নতুন করে ক্যু’র ভেতরে আরও একটি ক্যু-পরিকল্পনার প্রেক্ষাপটে— ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর— [১] শহীদ কর্নেল আবু তাহেরের বীরউত্তমের নেতৃত্বে, [২] বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার উদ্যোগে, [৩] বিপ্লবী গণবাহিনীর সহায়তায়, ও [৪] জাসদের সমর্থনে— সংঘটিত হয় ঐতিহাসিক সুমহান সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান।
সিপাহী-জনতার এ অভ্যুত্থান সংঘটনের প্রধানতম অনুপ্রেরণা/স্ফুলিঙ্গটি ছিলো সিপাহিদের অধিকার মর্যাদা বিষয়ক কিছু দাবিদাওয়ার সাথে যুক্ত রাজনৈতিক দাবিদাওয়া। অভ্যুত্থানের পরে তা “বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার ১২ দফা”য় পরিণত হয়। গত ৪৫ বছর ধরে বহু রাজনৈতিক সাহিত্যে ও গবেষণাকর্মের পরিশিষ্টে এ ‘১২ দফা’ প্রকাশিত হয়ে চলেছে, কিন্তু কোথাও আজ পর্যন্ত তা পুরোপুরিভাবে বিশ্লিষ্ট হয়নি। ১২ দফার চারটি দফা ছিল রাজনৈতিক ও আটটি দফা ছিল সিপাহীদের পেশাগত ও অর্থনৈতিক দাবি। ১২ দফার প্রথম দফায় বলা হয়েছে, “ধনিক শ্রেণি তাদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য আমাদের ব্যবহার করেছে। পনেরই আগস্টের ঘটনা এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। আমাদের এবারের বিপ্লব ধনিক শ্রেণির স্বার্থ রক্ষার জন্য নয়।” এরকম প্রকাশ্য-মুদ্রিত স্পষ্ট বক্তব্য থাকার পরও যারা ৭ নভেম্বরের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নিয়ে যড়যন্ত্র করেন তাদের প্রতি করুণা-বর্ষণ করা ছাড়া উপায় নেই।
< গোপন ষড়যন্ত্র বনাম ঘোষিত অভ্যুত্থান >
মহান সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান অফিসারদের নেতৃত্বে ক্যু সংগঠনের মতো কোনো গোপন ও ষড়যন্ত্রমূলক ঘটনা ছিলনা; এ অভ্যুত্থান সংগঠিত করার জন্য আগে থেকেই ব্যাপকভাবে লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে, সৈনিকদের সাথে সাথে অফিসারগণও তা পেয়েছেন। এ ছিল শক্তি সমাবেশ ও ক্ষমতা দখলের একটি প্রকাশ্য ঘোষিত-লড়াই। ৭ নভেম্বর সকালেই খন্দকার মোশতাক চক্র বেতারকেন্দ্রে গিয়ে ভাষণ দেয়ার চেষ্টা করেন; তাদেরকে সেখান থেকে বের করে দেয়া হয়। অভ্যুত্থানে গণসমাবেশের দিকটি বানচাল করতে গোয়েন্দা বাহিনীগুলো ৭ নভেম্বর শহীদ মিনারে ট্রাকে করে খন্দকার মোশতাকের ছবি নিয়ে হাজির হয় ও জাসদের প্রতিরোধের মুখে গোলাগুলি করে জনসভা বানচাল করে দেয়; ৮ নভেম্বর বায়তুল মোকাররমের জনসভাও গোয়েন্দা বাহিনী বানচাল করে দেয়।
পাকিস্তানপন্থার ও পাকিস্তানফেরত অফিসাররা জিয়ার সহায়তায় ক্রমে অভ্যুত্থানের বিজয় বানচাল করে দেয়। ২৪ নভেম্বর কর্নেল তাহের ও জাসদ নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতার করা হয়। ১৯৭৬ সালে কর্নেল তাহের ও জাসদ নেতাদের গোপন সামরিক আদালতে বিচার প্রহসনের মাধ্যমে দণ্ড ঘোষণা করা হয়; কর্নেল তাহেরের মৃত্যুদণ্ডাদেশ, হাসানুল হক ইনুর ১২ বছর কারাদণ্ড ও অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড। ২১ জুলাই ১৯৭৬ তারিখে কর্নেল তাহেরকে হত্যা করা হয়। সারাদেশে জাসদের ওপর নেমে আসে নৃশংস নির্যাতন-নিপীড়ন-গুম-খুন।
< পাকিস্তানপন্থার উত্থান >
বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ তার “ডেমোক্রেসি অ্যান্ড দ্য চ্যালেঞ্জ অব ডেমোক্রেসি” বইয়ে স্বীকার করেন যে কর্নেল তাহের সশস্ত্র বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধা-অমুক্তিযোদ্ধা দ্বন্দ্বের শিকার হয়েছেন। ১৯৭৬ সালে সশস্ত্র বাহিনীর পাকিস্তান-প্রত্যাগত ৪৬ জন অফিসার জিয়াউর রহমানের ওপর প্রচণ্ড চাপ প্রয়োগ করেছিলেন বিচারে কর্নেল তাহেরের প্রাণদণ্ড দেয়ার জন্য। তিনি জানান যে বঙ্গবন্ধু হত্যার মাধ্যমে ক্ষমতাসীন মোশতাকের অপসারণের পর জিয়ার মধ্যে পাকিস্তান-প্রত্যাগত অফিসারগণ তাদের নতুন মিত্র খুঁজে পেলেন। উভয় পক্ষের— অর্থাৎ জিয়ার ও পাকিস্তান-প্রত্যাগতদের— পরষ্পরকে দরকার হয়ে ওঠেছিল দেশের সিভিল-মিলিটারি সম্পর্ক-কাঠামোর মধ্যে ‘শ্রেণি’ হিসেবে ও ‘শক্তি’ হিসেবে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য। কারণ— পাকিস্তান-প্রত্যাগত অফিসারদের সাথে নিয়ে জিয়া ‘সশস্ত্র বাহিনী’তে এবং দেশের ‘ক্ষমতা’য় নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে চাইছিলেন।
< উপসংহার >
রাজনৈতিকভাবে পাকিস্তানপন্থা ও ব্যক্তিগতভাবে সেনাকর্মকর্তাদের ক্ষমতালিপ্সার ঐক্যের বিরুদ্ধে ৭ নভেম্বর মহান সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান ছিল দেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পথে ফিরিয়ে নেয়া ও সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য এ দেশের খেটে খাওয়া মানুষের সন্তান সাধারণ সিপাহীদের এক বিপ্লবী প্রয়াস। ২০০৯ সালে ১৪ দলের সরকার ক্ষমতায় আসার পর ধীরে ধীরে পাকিস্তানপন্থা কিছুটা পিছু হঠলেও, পাকিস্তানপন্থা ও ব্যক্তিস্বার্থের ঐক্য ও ষড়যন্ত্র ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আবারও সাময়িককালের জন্য সাফল্য অর্জন করে। এ অনাচারের ঐক্য বিচূর্ণ করে মুক্তিযুদ্ধের গণআকাঙ্ক্ষার আলোকে বাংলাদেশ গড়ে তোলার ঐক্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পালিত হোক এবারের মহান সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান দিবস।
লেখক: রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক এনজিও কর্মকর্তা।