খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 2শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ১৬ই নভেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
যুক্তরাজ্যে অবৈধ অভিবাসন ও আশ্রয়প্রার্থীদের বিষয়ে লেবার সরকারের বার্তাগুলো প্রতিদিনই আরও কঠোর হচ্ছে। নতুন নীতিমালা ও আইন প্রণয়নের ঘোষণা অভিবাসী সমাজের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ব্রিটিশ সরকার এখন এমন একটি নীতি প্রবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা কার্যকর হলে এসাইলাম প্রাপ্তরা আর ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর স্থায়ীভাবে দেশটিতে থাকতে পারবেন না। বরং মেয়াদ শেষ হলে তাদের নিজ দেশে ফিরতে বাধ্য করা হবে। এই নীতি ইউরোপের কঠোরতম অভিবাসন ব্যবস্থা প্রয়োগকারী দেশ ডেনমার্কের অনুসরণে তৈরি হচ্ছে।
ডেনমার্কে শরণার্থীদের সাধারণত দুই বছরের অস্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেয়া হয়, যার মেয়াদ শেষে পুনরায় আবেদন করতে হয়। যদিও একাধিকবার নবায়নের সুযোগ আছে, কিন্তু স্থায়ী বসবাস বা নাগরিকত্ব পাওয়া অত্যন্ত জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। যুক্তরাজ্যের হোম সেক্রেটারি শাবানা মাহমুদ মনে করেন, এই কঠোর নীতি ডেনমার্কে ডানপন্থী উত্থান ঠেকিয়ে জনসমর্থন ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সেই অভিজ্ঞতাকেই এখন ব্রিটেনের প্রেক্ষাপটে প্রয়োগ করা হচ্ছে।
বর্তমানে যুক্তরাজ্যে যারা শরণার্থী মর্যাদা পান, তারা পাঁচ বছর পর স্থায়ীভাবে বসবাস ও নাগরিকত্বের আবেদন করার সুযোগ পান। নতুন নীতি প্রবর্তিত হলে এই পথ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। এতে ইতোমধ্যে এসাইলাম পেয়েছেন এমন কয়েক হাজার অভিবাসীর মধ্যেও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। আইনজীবীদের মতে, নতুন আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকে যাদের এসাইলাম মিলবে, তাদের ক্ষেত্রেই সম্ভবত কঠোর ডেনমার্ক মডেল প্রয়োগ হবে।
তবে লেবার পার্টির ভেতরেই এ নীতি নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এমপি ক্লাইভ লুইস ডেনমার্ক মডেলকে “উগ্র ডানপন্থীদের ভাষণের প্রতিধ্বনি” আখ্যা দিয়েছেন। এমপি নাদিয়া হুইটম বলেছেন, এটি “নৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে বিপজ্জনক পথ”। তবুও হোম সেক্রেটারি মাহমুদ দলীয় সহকর্মীদের উদ্দেশে বার্তা দিয়েছেন—বর্তমান নীতি না মানলে সামনে আরও কঠোর প্রস্তাব আসতে পারে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মনে করেন, ডেনমার্ক দেখিয়ে দিয়েছে ইউরোপীয় মানবাধিকার কনভেনশনের মধ্যেও কঠোর নীতি বাস্তবায়ন সম্ভব। তবে তিনি ‘অ্যাকটিভিস্ট বিচারকদের’ সমালোচনা করে বলবেন, আদালত যদি পরিবারিক জীবনের অধিকারকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেয়, তাহলে বহিষ্কার কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়।
অন্যদিকে রিফর্ম ইউকে দাবি করেছে, অস্থায়ী মর্যাদা নয়—ছোট নৌকায় আসা সবাইকে আটক ও বহিষ্কার করাই সমস্যার একমাত্র সমাধান। কনজারভেটিভ পার্টি আবার দাবি করছে, লেবার বাতিল করা রুয়ান্ডা স্কিম ফিরিয়ে আনলেই ছোট নৌকার প্রবাহ বন্ধ হবে।
যদিও মাহমুদ স্বীকার করেছেন যে যুক্তরাজ্যের সীমান্ত ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে’, তবুও তার বিশ্বাস, ডেনমার্ক-অনুপ্রাণিত নতুন নীতি কার্যকর হলে শুধু অভিবাসন সংকটই নয়—নানা ইস্যুতে সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরে আসবে।