খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫
২০০৩ সালে শেষবারের মতো ভারতের বিপক্ষে জয় পায় বাংলাদেশ। সেদিন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে, নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে ড্র থাকার পর মতিউর মুন্নার গোল্ডেন গোলে ভারতকে হারিয়ে বাংলাদেশ ইতিহাস তৈরি করেছিল। এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ ২৩ বছর, তবে বাংলাদেশ এখনও ভারতকে হারাতে পারিনি। এই সময়ে ১০টি ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে ছয় ড্র আর চার হারে বাংলাদেশের জয় মেলেনি। চলতি বছরের মার্চে শিলংয়ে এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বের ম্যাচে, হামজা চৌধুরীর অভিষেক ঘটলেও, বাংলাদেশ ভারতকে হারাতে পারেনি। ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়েছিল। তবে আজ সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার শেষ হওয়ার আশায় মাঠে নামছে জামাল ভূঁইয়ার দল। বাংলাদেশ কোচ হাভিয়ের কাবরোও আশা করছেন, ঘরের মাঠে ভারতের বিপক্ষে এই জয়ের খরা কাটাতে পারবেন।
আজ রাত ৮টায় ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাচ্ছে এই মহারণ, যেখানে ভারতীয় কোচ খালিদ জামিল কিছুটা চাপ অনুভব করছেন বলে জানা গেছে। তবে ভারতের দলের প্রস্তুতির জন্য কঠোর পরিশ্রমের কথা বলেছেন তিনি। ভারতের দল এ ম্যাচে সকাল ৯টায় অনুশীলন করেছে, যদিও সাধারণত তারা ম্যাচের আগের দিন রাতে অনুশীলন করে থাকে। ভারতীয় কোচ বলেন, “এটা আমাদের নিয়ম, খেলার আগের দিন সকালে অনুশীলন করাই স্বাভাবিক।”
বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচে সর্বোচ্চ আলোচিত নাম ছিল সুনীল ছেত্রী, যিনি বহু ম্যাচে বাংলাদেশকে হারানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তবে, এই ম্যাচে সুনীলকে দলে না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কোচ খালিদ জামিল। এই বিষয়ে তিনি বলেন, “সে অবসর নিয়েছে।”
তবে, জামিল জানান, দুই দলের খেলোয়াড়রা জানে যে, এই ম্যাচটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং সবাই খুব সিরিয়াস থাকে। ১৯৭৮ সাল থেকে বাংলাদেশ এবং ভারত মোট ৩২ বার মুখোমুখি হয়েছে, যার মধ্যে ভারত ১৬ বার এবং বাংলাদেশ ২ বার জয়ী হয়েছে। বাকি ১৪ ম্যাচ ড্র হয়েছে। তাই, এই ম্যাচে জয় পাওয়া বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
বাংলাদেশ কোচ হাভিয়ের কাবরো বলেন, “এই ম্যাচে আবেগ অনেক বড় ভূমিকা রাখবে, তবে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আত্মবিশ্বাসী, কারণ আমাদের দল শক্তিশালী। তাই এবার ভারতের বিপক্ষে জয় আমাদের জন্য সম্ভাব্য।”
এছাড়া, ভারতের কোচও জানালেন, বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে তাদের দলকে আরও কঠিন পরিশ্রম করতে হবে, কারণ বাংলাদেশের দলের অনেক ভালো খেলোয়াড় রয়েছে। সুতরাং, আজকের ম্যাচটি শুধুমাত্র একটি ফুটবল ম্যাচ নয়, বরং অনেক আবেগ ও প্রত্যাশার সঙ্গে জড়িত একটি মহারণ।