খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ ৬১তম জন্মদিন উদযাপন করছেন। জন্মদিন উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টে দেশের নারীদের নিরাপত্তা এবং ডিজিটাল যুগের চ্যালেঞ্জ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) জন্মদিনে স্ত্রী জোবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানের সঙ্গে একটি ছবি শেয়ার করে ফেসবুকে দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন তারেক রহমান।
স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, ‘প্রযুক্তি আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রকে প্রভাবিত করছে। দৈনন্দিন রুটিন থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কও প্রযুক্তির গতির সঙ্গে বদলাচ্ছে। এটি আমরা কেউই অস্বীকার করতে পারি না।’
তারেক রহমান উল্লেখ করেন, তার স্ত্রী ও তিনি প্রজন্মের তুলনায় কন্যার জন্য বর্তমান পৃথিবী কতটা ভিন্ন তা ভাবেন। সুযোগ বেশি হলেও হুমকিও বেড়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ যদি এগিয়ে যেতে চায়, তাহলে মেয়েরা, মায়েরা, বোনেরা এবং সহকর্মীরা ভয়ভীতি ছাড়া জীবনে অংশ নিতে পারবে। প্রতিদিন নারীরা হয়রানি, হুমকি, বুলিং ও সহিংসতার শিকার হচ্ছেন—শুধু কথা বলার, কাজ করার, পড়াশোনা করার বা মুক্তভাবে বাঁচার জন্য।
নারীদের নিরাপদ থাকার জন্য তারেক রহমান ৫টি অগ্রাধিকার ঘোষণা করেছেন—
১. ন্যাশনাল অনলাইন সেফটি সিস্টেম: নারীরা সহজে সাইবার বুলিং, হুমকি, প্রতারণা, ভুয়া পরিচয় বা ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের অভিযোগ জানাতে পারবেন। ২৪/৭ হটলাইন, অনলাইন পোর্টাল ও প্রশিক্ষিত রেসপন্ডার থাকবে। বড় প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সমন্বয় করে বাংলা কনটেন্ট দ্রুত মডারেশন করা হবে।
২. পাবলিক লাইফে নারীর সুরক্ষা প্রোটোকল: সাংবাদিক, কর্মী, শিক্ষার্থী বা কমিউনিটি নেত্রী হিসেবে যারা আক্রমণ বা হয়রানির মুখোমুখি হন—তাদের জন্য জাতীয় নির্দেশিকা, দ্রুত আইনি ও ডিজিটাল সহায়তা এবং গোপনীয় রিপোর্টিং চ্যানেল নিশ্চিত করা হবে।
৩. ডিজিটাল সেফটি শিক্ষা: স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অরিয়েন্টেশনে বাস্তবসম্মত ডিজিটাল নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ প্রদান। প্রশিক্ষিত শিক্ষক ‘সেফটি ফোকাল পয়েন্ট’ হিসেবে কাজ করবেন এবং বার্ষিক সচেতনতা কার্যক্রম তরুণদের আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।
৪. সহিংসতা ও হয়রানির বিরুদ্ধে কমিউনিটি প্রতিক্রিয়া: কমিউনিটি হেল্প ডেস্ক, নিরাপদ যাতায়াত, উন্নত রাস্তার আলো এবং ট্রমা-সেনসিটিভ রেসপন্ডার নিয়োগের মাধ্যমে নারীদের দৈনন্দিন জীবন আরও নিরাপদ করা হবে।
৫. নারীর নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণে জাতীয় উদ্যোগ: লিডারশিপ ট্রেনিং, মেন্টরিং নেটওয়ার্ক এবং স্কুল-অফিস-কারখানায় শিশু যত্ন সুবিধা সম্প্রসারণের মাধ্যমে নারীরা নেতৃত্ব দিতে, সফল হতে এবং পূর্ণভাবে অবদান রাখতে পারবেন।
তারেক রহমান বলেন, নারীরা যত বেশি নিরাপদ, সমর্থিত ও ক্ষমতায়িত, বাংলাদেশ ততই অপ্রতিরোধ্য। আমাদের রাজনীতি, ধর্ম, জাতি বা লিঙ্গ যাই হোক, এটিই আমাদের একত্রিত করবে। তিনি সবাইকে আহ্বান জানিয়েছেন, কন্যাদের ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে একসাথে কাজ করতে।
খবরওয়ালা/টিএসএন