খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 9শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ২৩ই নভেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
আওয়ামী লীগের শাসনামলে টিএফআই-জেআইসি সেলে গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দুই পৃথক মামলায় সেনাবাহিনীর ১৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত হওয়া শুনানি পিছিয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাদের পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে ৩ ও ৭ ডিসেম্বর। তদন্ত সংস্থার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি গোলাম মোর্তোজা মজুমদারের নেতৃত্বে দুই সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ আজ রবিবার এই দিন ধার্য করেছেন।
শুনানিতে সেনাবাহিনীর ১৩ কর্মকর্তাকে হাজির করা হয়। এই দুই মামলায় মোট ৩০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, যার মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল রয়েছেন।
আজ সকাল ১০টার দিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে প্রিজনভ্যানে করে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। প্রিজনভ্যান থেকে নামিয়ে একে একে হাজতখানায় নেওয়া হয়।
ট্রাইব্যুনালে হাজির করা সেনা কর্মকর্তারা হলেন— র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসরকালীন ছুটিতে), র্যাব গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম, ডিজিএফআই-এর সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।
সেনা কর্মকর্তাদের হাজির করার কারণে সকাল থেকেই ট্রাইব্যুনাল এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। ট্রাইব্যুনাল ও সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ ঘিরে পুলিশ, বিজিবি ও র্যাব সদস্যরা অবস্থান নেন।
অন্যদিকে, গুমের এই দুই মামলায় পলাতক থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্র নিয়োগিত (স্টেট ডিফেন্স) হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না নিয়োগ পেয়েছেন। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল-১ আজ এই নিয়োগ দেন। পাশাপাশি এই মামলার অন্যান্য আসামিদের পক্ষেও আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।