খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫
বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপকার, প্রাবন্ধিক, কবি এবং বিদ্রূপাত্মক প্রবন্ধের পথিকৃৎ প্রমথ চৌধুরী বাংলা সাহিত্যে এক অনন্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। চলিত বাংলায় সাহসিকতার সঙ্গে গদ্য রচনা তিনি প্রথম প্রতিষ্ঠা করেন এবং তাঁর কলমে বাংলা গদ্য পায় স্বতন্ত্র আধুনিক স্বর। ‘বীরবল’ ছদ্মনামে রচিত তাঁর বিদ্রূপাত্মক প্রবন্ধসমূহ বাংলা সাহিত্যকে নতুন ধারায় পরিচিত করেছিল।
১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন প্রমথ চৌধুরী। পৈতৃক নিবাস পাবনার হরিপুর গ্রামে। তাঁর বাবা দুর্গাদাস চৌধুরী ছিলেন জমিদার। প্রমথ চৌধুরীর ছাত্রজীবন কেটেছে কলকাতার হেয়ার স্কুল, প্রেসিডেন্সি কলেজ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিছু সময় কলকাতা হাইকোর্টে আইন পেশায় যুক্ত থাকলেও পরবর্তীতে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন কলেজে শিক্ষকতা করেন।
সাহিত্য ও সম্পাদনার জগতে তাঁর অবদান ছিল দ্যুতিময়। তিনি সম্পাদনা করেন ‘মাসিক সবুজপত্র’, যা বাংলা চলিত গদ্যরীতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এছাড়া ‘বিশ্বভারতী’ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। টেগর এস্টেটের ম্যানেজার হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন, এবং ব্যক্তিগতভাবে রবীন্দ্রনাথের ভাইঝির জামাই ছিলেন তিনি।
তাঁর সাহিত্যকর্ম বিস্তৃত ও বৈচিত্র্যময়। উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ: তেল-নুন-লাকড়ি, বীরবলের হালখাতা, নানাকথা, আমাদের শিক্ষা, রায়তের কথা, নানাচর্চা। গল্পগ্রন্থ: চার-ইয়ারী কথা, আहुতি, নীল্লোহিত। কাব্যগ্রন্থ: সনেট পঞ্চাশৎ, পদচারণ।
চলিত ভাষার ব্যবহার, বিদ্রূপাত্মক গদ্যের শৈল্পিক উৎকর্ষ এবং আধুনিক প্রবন্ধসাহিত্যের বিকাশে তাঁর অবদান আজও উজ্জ্বল। ১৯৪৬ সালের ২ ডিসেম্বর প্রমথ চৌধুরী প্রয়াত হন। তাঁর সাহিত্যকর্ম আজও বাংলা সাহিত্যের পথ আলোকিত করছে।
খবরওয়ালা /এসএস