খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫
যুক্তরাষ্ট্র বিদেশি শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের ওয়ার্ক পারমিট বা ইএডির মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে ১৮ মাসে এনেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি দেড় বছর অন্তর আবেদনকারীদের এই নথি পুনরায় নবায়ন করতে হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সংস্থা ইউএসসিআইএস এ ঘোষণা দেয়।
এই পরিবর্তন মূলত ১৯টি বিভাগের শরণার্থী, আশ্রয়প্রার্থী, ডিপোর্টেশন রোধে থাকা এবং অন্যান্য মানবিক কারণে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আগে দীর্ঘমেয়াদি মেয়াদ থাকায় তারা কর্মক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীলভাবে থাকতে পারতেন। এখন নিয়ম পরিবর্তনে তাদের অনিশ্চয়তা এবং প্রশাসনিক ঝামেলা বাড়বে।
নতুন নীতির পেছনে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
২০২৪ সালে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় ফিরতে ট্রাম্প বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন—অভিবাসন ব্যবস্থা কঠোর করবেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে:
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান
সীমান্ত টহল বৃদ্ধি
অভিবাসনের সব ক্যাটাগরিতে কঠোর যাচাই
আইনি ভিসা প্রক্রিয়ায় বড় আর্থিক চাপ
এই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে ইএডির মেয়াদ কমানোকে দেখা হচ্ছে। অভিবাসী কমানোর রাজনৈতিক প্রচেষ্টা বাস্তবায়নের সহজ উপায় হিসেবে অনেকেই এটিকে ব্যাখ্যা করছেন।
এইচ–১বি ভিসার ফি বৃদ্ধির তীব্র সমালোচনা
ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি এইচ–১বি ভিসার ফি ১,৫০০ ডলার থেকে বাড়িয়ে দিয়েছে ১ লাখ ডলারে—যা বিশ্বব্যাপী শ্রমবাজারে বড় বিতর্ক তৈরি করেছে। প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো বলছে, এতে তারা বিদেশি বিশেষজ্ঞ নিয়োগে নিরুৎসাহিত হবে, যার ফলে উদ্ভাবনী খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সাম্প্রতিক নিরাপত্তাজনিত ঘটনা প্রভাব ফেলেছে নীতিতে
এক আফগান শরণার্থীর গুলিতে দুই ন্যাশনাল গার্ড সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে নিরাপত্তা প্রশ্ন জোরালো হয়েছে। এর পরপরই সরকার ১৯টি দেশের অভিবাসন কার্যক্রম স্থগিত করে। পাশাপাশি ৩০টিরও বেশি দেশের নাগরিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।
এই ঘটনার পর অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সম্ভাব্য প্রভাব
লাখো বৈধ অভিবাসীর কর্মসংস্থানে অনিশ্চয়তা
সময়মতো নবায়ন না হলে চাকরি হারানোর ঝুঁকি
বাড়তি ফি, আইনি খরচ ও প্রশাসনিক জটিলতা
যুক্তরাষ্ট্রে শ্রমঘাটতির সম্ভাবনা
মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে নীতির কঠোরতা নিয়ে সমালোচনা