খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে যে আলোচনা চলছে, তা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শুক্রবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন,
“বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতার সঙ্গে সংসদ নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। নির্বাচন নিজের সময়েই হবে। এই দুই বিষয়ের মধ্যে কোনো যোগসূত্র নেই।”
আমীর খসরু বলেন, দেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা এবং জনগণের ভোটাধিকার পুনঃস্থাপনই খালেদা জিয়ার সবচেয়ে বড় ইচ্ছা। তাই তিনি কখনোই দেশকে নির্বাচনবিহীন অবস্থায় দেখতে চান না।
“উনি যে অবস্থায়ই থাকুন, তিনি সবসময় চান জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করুক। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ যেন নিজেদের সরকার গঠন করতে পারে—এই চাওয়াই তার আজীবনের সংগ্রাম।”
এই বক্তব্য ইঙ্গিত করে যে বিএনপি তার শীর্ষ নেত্রীর অসুস্থতাকে রাজনৈতিক চাপ তৈরি করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে রাজি নয়।
খসরু জানান, খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার সব ব্যবস্থা সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি বলেন,
“চিকিৎসকের চূড়ান্ত মত পেলেই তাকে লন্ডনে নেওয়া হবে। বিষয়টি সম্পূর্ণ চিকিৎসা সম্পর্কিত। এর সঙ্গে নির্বাচন সময়সূচির কোনো সম্পর্ক নেই।”
এর আগে খালেদা জিয়ার বিদেশে যাওয়া নিয়ে সরকার ও বিএনপির দ্বন্দ্ব রাজনৈতিকভাবে উত্তপ্ত ছিল। খসরুর এ বক্তব্যে দলের অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়।
তিনি প্রশ্ন তোলেন,
“নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার প্রশ্নটা আসছে কোথায় থেকে? নির্বাচন নিজের নির্ধারিত সময়েই হওয়া উচিত।”
এই বক্তব্য পর্যবেক্ষকদের মতে কয়েকটি বার্তা দেয়:
বিএনপি নির্বাচনকে পুরোপুরি বয়কট করতে চাচ্ছে না,
বরং নির্বাচনকালীন পরিবেশ ও শর্ত নিয়ে আলাপ করতে চায়,
খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য বিষয়টিকে আলাদা রাখা হচ্ছে।
বিগত মাসগুলোতে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বিএনপির অবস্থান রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্র ছিল।
এই সময়ে খসরুর বক্তব্যকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে কারণ—
এটি বিএনপির ‘কৌশলগত নমনীয়তা’ নির্দেশ করে।
নির্বাচনের তারিখ ঘিরে গুজব ও ব্যাখ্যাগুলোকে খারিজ করে দেয়।
বেগম জিয়ার অবস্থাকে রাজনৈতিক টুল বানানোর প্রবণতা থেকে দলটি সরে দাঁড়াল।
সভা শেষে বিএনপির নেতাদের মতে, আমীর খসরুর বক্তব্য দলীয় অবস্থানকে নতুন করে দৃঢ় করে। খালেদা জিয়ার চিকিৎসা, নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি—এই তিনটি বিষয়কে আলাদা করে দেখার যে বার্তা তিনি দিলেন, তা চলমান রাজনৈতিক উত্তপ্ত প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে।