খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫
“উন্নয়ন মানে শুধু দারিদ্র্য দূর করা নয়, বরং মানুষকে তার সম্ভাবনার পূর্ণতায় পৌঁছে দেওয়া।” এই নীতিই ছিল স্যার ফজলে হাসান আবেদের জীবনের মূলমন্ত্র। তিনি ছিলেন এমন এক দৃষ্টি-প্রবর্তক, যিনি নীরবভাবে হলেও বাংলাদেশ ও বিশ্বে চিরস্থায়ী ছাপ রেখে গেছেন। ১৯৩৬ সালের ২৭ এপ্রিল হাবিগঞ্জের বানিয়াচঙ্গে জন্মগ্রহণ করা আবেদের শৈশবকাল ছিল সহমর্মিতা, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মর্যাদার মধ্য দিয়ে সংহত। এই মূল্যবোধগুলোই তাকে জীবনভর সামাজিক পরিবর্তনের জন্য নিবেদিত করেছিল।
একজন স্বপ্নদ্রষ্টা, সমাজসংগঠক ও বাস্তবমুখী চিন্তাবিদ হিসেবে আবেদ পাকিস্তান যুগে কর্পোরেট জগতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেন। তবে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ তার দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণরূপে বদলে দেয়। নতুন স্বাধীন বাংলাদেশের মানুষের ভোগান্তি, ধ্বংসস্তূপ ও চরম দারিদ্র্য দেখে তিনি গভীরভাবে প্রভাবিত হন। এই সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধ থেকেই ১৯৭২ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ব্র্যাক (বাংলাদেশ গ্রামীণ অগ্রগতি সমিতি)। ছোট একটি উদ্যোগ হিসেবে শুরু হলেও আজ এটি বিশ্বের বৃহত্তম বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।
স্যার আবেদের দূরদর্শী নেতৃত্বে ব্র্যাক শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, নারী ক্ষমতায়ন, ক্ষুদ্রঋণ, দারিদ্র্য নিরসন এবং সামাজিক ন্যায়ের মতো ক্ষেত্রগুলোতে ব্যাপক অবদান রেখেছে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন, টেকসই উন্নয়ন সম্ভব শুধুমাত্র মানুষের অন্তর্নিহিত ক্ষমতা ও সম্ভাবনাকে জাগ্রত করে। তার অবিরাম প্রচেষ্টা ব্র্যাককে একটি দাতব্য সংস্থা থেকে একটি শক্তিশালী দারিদ্র্য ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে পরিণত করেছে, যা বিশ্বব্যাপী কোটি মানুষের জীবন স্পর্শ করেছে।
২০১৮ সালে তিনি ব্র্যাকের চেয়ারম্যান পদ থেকে অবসর নেন এবং এমেরিটাস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যা তার বৈশ্বিক স্বীকৃতির প্রমাণ। Throughout his life, তিনি অসংখ্য সম্মাননা অর্জন করেন—যেমন নাইটহুড, রামন ম্যাগসিসে পুরস্কার, গ্লোবাল সিটিজেন অ্যাওয়ার্ড, ওয়ার্ল্ড ফুড প্রাইজ এবং অন্যান্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক খেতাব।
স্যার ফজলে হাসান আবেদ ২০ ডিসেম্বর ২০১৯ সালে প্রয়াত হন। তবে তার আদর্শ, দর্শন ও মানবকল্যাণের প্রতি অটল প্রতিশ্রুতি আজও কোটি মানুষের জীবনে আলোকবর্তিকা হয়ে আছে। তিনি এমন এক মানুষ ছিলেন, যিনি ক্ষমতার জন্য নয়, মানবতার জন্য ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন। তার স্মৃতি চিরকাল অনুপ্রেরণার দীপ হিসেবে জ্বলে থাকবে, আর তার ত্যাগ ও সেবার প্রতি সারা বিশ্বের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা অমর হয়ে থাকবে।