খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫
বগুড়ায় শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়ে ঘন কুয়াশা এবং হিমেল বাতাস জনজীবন বিপর্যস্ত করেছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। শীত থেকে রক্ষা পেতে অনেকেই রাস্তায় গরম কাপড় গায়ে জড়িয়ে খড়কুটো বা কাগজ জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে। অনেকেই সূর্যের আলো না পাওয়া পর্যন্ত ঘর থেকে বের হচ্ছেন না।
রোববার (২১ ডিসেম্বর) সকালে বগুড়ায় চলতি মৌসুমে সর্বনিম্ন ১৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর আগে, শনিবার জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে শীত আরও তীব্র হতে পারে।
দুপুর ২টার দিকে সূর্যের এক ঝলক দেখা গেলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। মহাসড়কগুলোতে দিনের বেলাতেও যানবাহন চালাতে হেডলাইট ব্যবহার করা হচ্ছে।
সারিয়াকান্দির খেয়াঘাটের নৌকাচালক হুরমুত আলি বলেন, “কুয়াশায় নদীতে কিছুই দেখা যায় না। হিমেল বাতাসে শরীরে কাঁপুনি ধরে, মানুষ খুবই কষ্ট পায়। তাপমাত্রা এভাবে থাকলে নৌকা পারাপার করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।”
শহরের রিকশাচালক জামাল মিয়া জানান, “যত শীতই হোক, পরিবার চালাতে ঘর থেকে বের হতে হয়। রিকশা না চালালে খাওয়ার ব্যবস্থা হবে না।”
বগুড়া আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক শাহিদুজ্জামান সরকার বলেন, “রোববার সকালে ১৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন। আকাশে মেঘ আছে এবং হিমেল বাতাস বইছে। এই পরিস্থিতি আরও কয়েক দিন বজায় থাকতে পারে।”
শীতের তীব্রতায় সাধারণ মানুষ ও পথচারীদের সঙ্গে কর্মজীবী মানুষদের প্রতিদিনের জীবনযাত্রা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে রিকশাচালক, নৌকাচালক ও খুচরা ব্যবসায়ীরা শীতের কারণে আর্থিক ও দৈনন্দিন জীবনে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
| তারিখ | সর্বনিম্ন তাপমাত্রা (ডিগ্রি সেলসিয়াস) | আকাশের অবস্থা | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| ২০ ডিসেম্বর | ১৪.৮ | আংশিক মেঘলা | আগের দিন তুলনায় শীত বৃদ্ধি পায় |
| ২১ ডিসেম্বর | ১৩.২ | ঘন মেঘলা ও হিমেল বাতাস | চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন, শীত আরও তীব্র হতে পারে |