খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সাম্প্রতিক সময়ে যাত্রীসেবা ও লাগেজ ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি সাধন করেছে। অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপত্তা জোরদারকরণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার ফলে দেশি-বিদেশি যাত্রীদের ভোগান্তি অনেকাংশে কমে এসেছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চেক-ইন ও ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া আগের তুলনায় দ্রুত হয়েছে। আধুনিক স্ক্যানিং যন্ত্র স্থাপন, কাউন্টার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং জনবল পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে যাত্রী চলাচলে গতিশীলতা এসেছে। উন্নত নজরদারি ও স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুরক্ষা ও কার্যকারিতা আরও বৃদ্ধি করেছে।
লাগেজ হ্যান্ডলিং ব্যবস্থায়ও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। ডেলিভারি সময় কমেছে এবং হারানো লাগেজ সংক্রান্ত অভিযোগ হ্রাস পেয়েছে। বিমানবন্দরটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, বসার সুবিধা সম্প্রসারণ এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের উপরও গুরুত্ব আরোপ করেছে।
সৌদি আরব থেকে ফিরছেন প্রবাসী আবুল বাশার বলেন, “আগে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো, এখন অপেক্ষার সময় অনেক কমেছে। ডিজিটাল সাইনেজ ও তথ্যসেবা ডেস্কের উন্নতির ফলে প্রয়োজনীয় তথ্য সহজেই পাওয়া যাচ্ছে। বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরার সম্প্রসারণ দেখে স্বস্তি পেয়েছি। এটি প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করবে।”
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কে এম আবু নওশাদ বলেন, “দলের সম্মিলিত উদ্যোগ এবং আন্তরিকতার মাধ্যমে আরও উন্নত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব। যাত্রীরা যেকোনো সমস্যা, পরামর্শ বা অভিযোগ ১৩৬০০ হটলাইনে জানাতে পারেন।”
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম জানিয়েছেন, বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরার ব্যবহার লাগেজ হ্যান্ডলিংয়ে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করছে। এটি যাত্রীদের সম্পত্তি সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি দায়ী ব্যক্তি বা স্টেশন শনাক্তকরণ সহজ করছে।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ বলেন, “বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স দীর্ঘদিন ধরে বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহার করে আসছে। সম্প্রতি এটি সকল এয়ারলাইন্সের ব্যাগেজ কার্যক্রমে সম্প্রসারিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ধাপে ধাপে উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।”
নিচের টেবিলে সাম্প্রতিক উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ ও তার প্রভাব সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ | প্রভাব / ফলাফল |
|---|---|
| আধুনিক স্ক্যানিং যন্ত্র স্থাপন | চেক-ইন প্রক্রিয়া দ্রুততর |
| কাউন্টার সংখ্যা বৃদ্ধি ও জনবল পুনর্বিন্যাস | যাত্রী চলাচলে গতিশীলতা বৃদ্ধি |
| বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা সম্প্রসারণ | লাগেজ হ্যান্ডলিংয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা |
| ডিজিটাল সাইনেজ ও তথ্যসেবা ডেস্ক | যাত্রীদের তথ্যপ্রাপ্তিতে সুবিধা বৃদ্ধি |
| পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও বসার সুবিধা | যাত্রী সন্তুষ্টি ও পরিবেশবান্ধবতা বৃদ্ধি |
এই ধারাবাহিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে আরও উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।