খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)-এর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। শাখা জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক আবদুল আলীম ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মাদ আমীরুল ইসলাম গত সোমবার রাতে এক বিবৃতিতে এই অভিযোগ ও নিন্দা প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে অশালীন ভাষায় বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বিভিন্ন দপ্তরে তালা লাগিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টির পাশাপাশি অশোভন আচরণ করে পুরো ক্যাম্পাসে ভীতিকর ও নৈরাজ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এবং শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।
শিক্ষক ফোরাম আরও উল্লেখ করেছে, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার ঘটনা এবং জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করা হয়েছে। শিক্ষকেরা বলছেন, সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনানুগ প্রক্রিয়ায় দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
বিবৃতিতে রাকসুর জিএসের সামাজিক মাধ্যমে ডিন ও শিক্ষকদের প্রতি হুমকি, অপমান ও কুরুচিপূর্ণ ভাষার ব্যবহার উল্লেখ করা হয়েছে, যা ক্যাম্পাসের শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশে প্রভাব ফেলেছে। শিক্ষকরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ ১৯৭৩ অনুযায়ী পরিচালিত হয় এবং ডিন, সিন্ডিকেট, শিক্ষা পরিষদ ও অর্থ কমিটির দায়িত্ব মেয়াদ অনুসারে দেওয়া হয়।
| তারিখ | ঘটনা | প্রভাব/পরিণতি |
|---|---|---|
| ২৯ জুলাই | ‘৩৬ জুলাই: মুক্তির উৎসব’ কনসার্টের জন্য ৭০ প্রতিষ্ঠান থেকে ৭৬ লাখ টাকা অনুদান চাওয়া। | সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে, পরে সিটি করপোরেশন ২ লাখ টাকা প্রদান। |
| ২০ সেপ্টেম্বর | পোষ্য কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদে প্রশাসনিক ভবনের সামনে আন্দোলন, উপ-উপাচার্যকে জুবেরী ভবনে অবরুদ্ধ রাখা। | প্রশাসন পোষ্য কোটা স্থগিত। |
| ২৬ নভেম্বর | ‘৩৬ জুলাই: মুক্তির উৎসব’ কনসার্টে শিল্পীদের অংশগ্রহণ না করার কারণে ১৬ লাখ টাকার ক্ষতি। | আর্টসেলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের। |
| ১৮ ডিসেম্বর | শিক্ষক ও গণমাধ্যমকে বন্ধ করার হুঁশিয়ারি। | শিক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ বৃদ্ধি। |
| ২১ ডিসেম্বর | প্রশাসনিক দপ্তরে তালা দেওয়া ও ডিনদের পদত্যাগের হুমকি। | ছয় ডিন পদত্যাগ করেন। |
শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক আবদুল আলীম সমকালকে বলেন, “একজন শিক্ষার্থী যে কোনো সময় মব সৃষ্টি করছে, এটি সহ্যযোগ্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয় নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী চলবে।”
অন্যদিকে, সালাহউদ্দিন আম্মার তার ফেসবুক পোস্টে দাবি করেছেন, শিক্ষকরা তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সমালোচনা করছেন এবং ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক শিবিরের আশ্রয় ব্যবহার করছেন।
বাংলাদেশ জাসদও এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি শৃঙ্খলা রক্ষা, অবৈধ নিয়োগ ও অনিয়ম তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় চলমান এই ঘটনা শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশে গভীর প্রভাব ফেলছে এবং শিক্ষক ও প্রশাসনের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি করছে। শিক্ষাবিদরা বলছেন, “ক্যাম্পাসে মবোক্রেসি ও স্বৈরাচারী আচরণ সহ্যযোগ্য নয়; শিক্ষার্থীদেরও দায়িত্ব ও সীমা জানা প্রয়োজন।”