খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫
ইসলামের পবিত্রতম স্থান মক্কার মসজিদুল হারামে এক ব্যক্তির আত্মহত্যার চেষ্টা ঘিরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) কাবা শরীফ প্রদক্ষিণের জন্য নির্মিত বহুতল কাঠামোর ওপরের স্তর থেকে নিচে লাফ দেওয়ার চেষ্টা করেন ওই ব্যক্তি। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত ও সমন্বিত হস্তক্ষেপে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়। যদিও তাকে বাঁচাতে গিয়ে দায়িত্বে থাকা এক নিরাপত্তারক্ষী আহত হন।
সৌদি প্রেস এজেন্সি ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সিয়াসাতের প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনার সময় মসজিদুল হারামে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সেখানে দায়িত্বরত নিরাপত্তা সদস্যরা মুহূর্তের মধ্যেই ওই ব্যক্তিকে নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং আশপাশের মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েনি।
সৌদির জননিরাপত্তা বিষয়ক অধিদপ্তর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ঘটনার একটি ভিডিও প্রকাশ করে জানায়, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় পূর্বনির্ধারিত নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, হারাম শরীফে সার্বক্ষণিক নজরদারি ও প্রশিক্ষিত নিরাপত্তা ইউনিট মোতায়েন থাকায় এমন সংবেদনশীল মুহূর্তেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে।
প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি ওপরের অংশ থেকে নিচে ঝাঁপ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় একাধিক নিরাপত্তা সদস্য দ্রুত তার দিকে এগিয়ে যান। তাকে থামানোর চেষ্টাকালে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে এক নিরাপত্তারক্ষী আহত হন। পরে আহত নিরাপত্তাকর্মী ও আত্মহত্যার চেষ্টা করা ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।
কাবা শরীফের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী জানায়, বর্তমানে উভয়েই চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়াও শুরু করা হয়েছে।
মক্কা অঞ্চলের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার পরপরই তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে আত্মহত্যার চেষ্টা করা ব্যক্তির পরিচয়, তিনি কোন দেশের নাগরিক কিংবা ঘটনার পেছনের কারণ সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
উল্লেখ্য, মসজিদুল হারাম বিশ্বের সবচেয়ে সুরক্ষিত ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর একটি। লাখো মুসল্লির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে আধুনিক প্রযুক্তি, নজরদারি ব্যবস্থা ও বিশেষায়িত জরুরি ইউনিট সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকে। তবুও অতীতেও বিচ্ছিন্নভাবে এমন ঘটনা ঘটেছে। ২০১৭ সালে এক সৌদি নাগরিক সেখানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। ২০১৮ সালে হারাম চত্বরে আত্মহত্যা সংশ্লিষ্ট কয়েকটি ঘটনা নথিভুক্ত হয়। সর্বশেষ ২০২৪ সালে এক ব্যক্তি হারামের ওপরের অংশ থেকে লাফ দিয়ে প্রাণ হারান।
এই সাম্প্রতিক ঘটনা আবারও স্মরণ করিয়ে দেয়, বিশ্বের সবচেয়ে পবিত্র ও নিরাপদ স্থানেও মানবিক সংকট ও মানসিক বিপর্যয়ের বাস্তবতা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।