খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি ২০২৬
গাজীপুরের শ্রীপুরে মাদকবিরোধী অভিযান চালানোর সময় পুলিশের ওপর সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীরা। ঘটনায় চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন এবং হামলাকারীরা পুলিশের দুটি গাড়ি ভাঙচুর করে মাদকদ্রব্য ছিনিয়ে নিয়েছে। পুলিশ দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে দুই নারীসহ ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমদ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “এই ঘটনায় দুটি পৃথক মামলা হয়েছে। একটি মামলা মাদক সম্পর্কিত এবং অপরটি পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা হয়েছে।”
পুলিশের তথ্যানুযায়ী, বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাত ১০টার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার মাওনা পিয়ার আলী কলেজের উত্তর পাশের একটি বাড়ির সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন: শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অরূপ কুমার বিশ্বাস, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মাসুদ, কনস্টেবল আজিজুল এবং কনস্টেবল মোশারফ। হামলার সময় কনস্টেবল মোশারফ ছুরিকাঘাতে আহত হন। আহত পুলিশ সদস্যদের শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ওই রাতে একটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শ্রীপুর থানা পুলিশের একটি দল মাদক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালায়। অভিযানকালে ইয়াবাসহ তিন মাদক ব্যবসায়ী — লাকি আক্তার, জাহাঙ্গীর হোসেন ও মো. রাজীবকে আটক করা হয়। তবে তাদের আটক হওয়া খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় মাদককারবারিরা দেশীয় অস্ত্র, রামদা ও লোহার রড নিয়ে পুলিশের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। হামলাকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুঁড়ে, পুলিশের দুটি গাড়ি ভাঙচুর করে এবং কিছু মাদকদ্রব্য ছিনিয়ে নেয়।
পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযান পরিচালনায় অংশ নেওয়া ১০ জনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে দুই নারী রয়েছেন।
| নাম | বয়স | সম্পর্ক / পিতা বা স্বামী |
|---|---|---|
| লাকি আক্তার | ২৮ | দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী |
| জামাল | ৩৪ | নান্নু মিয়ার ছেলে |
| কামাল | ৪৩ | – |
| আসিফ | ২০ | কামাল মিয়ার ছেলে |
| আশিক | ২৪ | – |
| মুন্না | ২০ | বাবুল মিয়ার ছেলে |
| ফয়জুল্লাহ | ২৬ | ওয়াহাব উদ্দিনের ছেলে |
| শিল্পী আক্তার | ৩০ | আবুল কাশেমের স্ত্রী |
| লিমন | ১৮ | কাশেমের ছেলে |
| আক্কাস | ২৯ | মোহাম্মদের ছেলে, চট্টগ্রাম অনোয়ারা উপজেলার বরমচটা গ্রাম |
ওসি মোহাম্মদ নাছির আহমদ বলেন, “পুলিশ যথাযথভাবে তদন্ত করছে। এই ধরনের সশস্ত্র হামলা ও মাদকদ্রব্য ব্যবসা না-বিধ্বংসী করার জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় এলাকাবাসী উদ্বিগ্ন, তবে তারা পুলিশের দ্রুত প্রতিক্রিয়া ও গ্রেফতারের কার্যক্রমকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন।