খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৩ জানুয়ারি ২০২৬
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টা পরিবর্তনের পর মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ব্যাপক রদবদল শুরু হয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে মোট ১৩ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বদলি হয়েছেন এবং আরও কয়েকজনের বদলির কথা শোনা যাচ্ছে। একই সঙ্গে আগের উপদেষ্টার সময়ে প্রস্তাবিত কিছু প্রকল্পও পুনর্বিন্যাসের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
গত বছর অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের তিন মাস পর স্থানীয় সরকার উপদেষ্টার দায়িত্ব পান অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণ নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ভোটে অংশ নেওয়ার জন্য ১০ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন তিনি। পরদিন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় আদিলুর রহমান খানকে, যিনি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও বহন করছেন।
এরপরের দুই সপ্তাহে মন্ত্রণালয়ে ব্যাপক রদবদল শুরু হয়। জনপ্রশাসন মহলে মনে করা হচ্ছে, নতুন উপদেষ্টা নিজস্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী মন্ত্রণালয় সাজাচ্ছেন। তবে একটি সূত্র জানিয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে পূর্বে অভিযোগ ছিল, তাদের সরানো হচ্ছে।
| পদমর্যাদা | নাম | নতুন কর্মস্থল |
|---|---|---|
| উপসচিব | নুরে আলম | পরিকল্পনা বিভাগ |
| উপসচিব | মোহাম্মদ শামীম বেপারী | পরিকল্পনা বিভাগ |
| যুগ্ম সচিব | আবুল হাসান (পিএস) | জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ |
| যুগ্ম সচিব | মো. নাজমুল হুদা শামীম | অন্য মন্ত্রণালয় |
| যুগ্ম সচিব | ওয়াহেদুর রহমান | অন্য মন্ত্রণালয় |
| যুগ্ম সচিব | আল-মামুন | অন্য মন্ত্রণালয় |
| যুগ্ম সচিব | মনিরুল ইসলাম | অন্য মন্ত্রণালয় |
| যুগ্ম সচিব | আল-আমিন সরকার | অন্য মন্ত্রণালয় |
| যুগ্ম সচিব | ফজলে আজিম | অন্য মন্ত্রণালয় |
| উপসচিব | আকবর হোসেন | অন্য মন্ত্রণালয় |
| উপসচিব | ইবাদত হোসেন | অন্য মন্ত্রণালয় |
| উপসচিব | শাহীনুর আলম | অন্য মন্ত্রণালয় |
| উপসচিব | রবিউল ইসলাম | অন্য মন্ত্রণালয় |
অন্যদিকে, পাঁচজন কর্মকর্তাকে অন্য মন্ত্রণালয় থেকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে। তারা হলেন: অতিরিক্ত সচিব আকনুর রহমান, যুগ্ম সচিব রোকসানা খান, যুগ্ম সচিব হোসনা আফরোজা, উপসচিব নজরুল ইসলাম এবং উপসচিব আশরাফুল আফসার।
আসিফ মাহমুদের সময় প্রস্তাবিত কুমিল্লার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ফেরত পাঠানো হচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
আর্চি নদ ও বুড়ি নদী পুনঃখনন – ৪৬ কোটি টাকা ব্যয়, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করতে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছিল।
বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ঘুংঘর নদী ও খাল পুনঃখনন – ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়।
পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, উভয় প্রকল্পে জনবল নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় সমীক্ষা যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়নি। তাই প্রকল্পগুলো আলাদাভাবে নয়, একীভূতভাবে সমীক্ষা করে বাস্তবায়ন করা হবে। এছাড়া ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকার কুমিল্লা জেলার সড়ক ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পও অনুমোদনের আগে ফেরত পাঠানো হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, “প্রকল্পটি এখনও একনেকে অনুমোদন পায়নি, তবে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
বৃহত্তর প্রশাসনিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি একটি স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, যেখানে নতুন উপদেষ্টা নিজস্ব নীতি ও পরিকল্পনা অনুযায়ী মন্ত্রণালয় সাজাচ্ছেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বে থাকা কয়েকজন কর্মকর্তারও বদলির সম্ভাবনা রয়েছে।