খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি ২০২৬
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেল। বুধবার (৭ জানুয়ারি, ২০২৬) উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে রাতে এই ফলাফল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচনের প্রাপ্ত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিপুল সমর্থনে শীর্ষ তিনটি পদসহ অধিকাংশ পদে নিরঙ্কুশ বিজয় নিশ্চিত করেছেন।
ফলাফল ঘোষণা ও প্রধান পদের পরিসংখ্যান
বুধবার রাত সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৮টি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ভোট গণনা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. কানিজ ফাতিমা কাকলী। ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, সহ-সভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এবং সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস)—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদের সবকটিতেই জয়লাভ করেছে অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেল।
সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে বিজয়ী হয়েছেন রিয়াজুল ইসলাম। তিনি পেয়েছেন ৫ হাজার ৫৬৪ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের এ কে এম রাকিব পেয়েছেন ৪ হাজার ৬৮৮ ভোট। সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে আব্দুল আলিম আরিফ ৫ হাজার ৪৭০ ভোট পেয়ে এক বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খাদিজাতুল কুবরা পেয়েছেন মাত্র ২ হাজার ২০৩ ভোট।
নিচে জকসু নির্বাচনের শীর্ষ তিন পদের বিস্তারিত ফলাফল সারণি আকারে তুলে ধরা হলো:
| পদের নাম | বিজয়ীর নাম (প্যানেল) | প্রাপ্ত ভোট | নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী (প্যানেল) | প্রাপ্ত ভোট | ভোটের ব্যবধান |
|---|---|---|---|---|---|
| সহ-সভাপতি (ভিপি) | রিয়াজুল ইসলাম (শিবির) | ৫,৫৬৪ | এ কে এম রাকিব (ছাত্রদল) | ৪,৬৮৮ | ৮৭৬ |
| সাধারণ সম্পাদক (জিএস) | আব্দুল আলিম আরিফ (শিবির) | ৫,৪৭০ | খাদিজাতুল কুবরা (ছাত্রদল) | ২,২০৩ | ৩,২৬৭ |
| সহকারী জিএস (এজিএস) | মাসুদ রানা (শিবির) | ৫,০০২ | বিএম আতিকুর তানজিল (ছাত্রদল) | ৩,৮৬৮ | ১,১৩৪ |
নির্বাচনী পরিবেশ ও ভোটাভুটি
এবারের জকসু নির্বাচন ছিল গত কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম সুশৃঙ্খল এবং প্রতিযোগিতামূলক। সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা লাইনে দাঁড়িয়ে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচনে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতে, দীর্ঘ সময় পর জকসু কার্যকর হওয়ায় ক্যাম্পাসে সুস্থ ধারার রাজনীতির চর্চা বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে জিএস পদে আব্দুল আলিম আরিফের ৩ হাজার ২৬৭ ভোটের ব্যবধানে জয় ক্যাম্পাসে তাঁর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এবং সাংগঠনিক শক্তির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
বিজয়ীদের প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
বিজয় ঘোষণার পর নবনির্বাচিত ভিপি রিয়াজুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “এই বিজয় সাধারণ জবিয়ানদের বিজয়। আমরা দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় এবং সেশনজটমুক্ত ক্যাম্পাস গড়তে কাজ করব।” নবনির্বাচিত জিএস আব্দুল আলিম আরিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট সমাধান এবং ক্যান্টিনের খাবারের মান উন্নয়নের প্রতি অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
বিশ্লেষকদের অভিমত
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জকসুর এই ফলাফল ছাত্র রাজনীতির এক নতুন মেরুকরণ নির্দেশ করছে। দীর্ঘ সময় পর ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের এই জয় এবং ছাত্রদলের পরাজয় প্রমাণ করে যে, সাধারণ শিক্ষার্থীরা এখন প্রথাগত বড় রাজনৈতিক দলের চেয়ে সাংগঠনিক প্রতিশ্রুতি ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির প্রতি বেশি আগ্রহী।
এই ঐতিহাসিক বিজয়ের মাধ্যমে জকসুতে নিজেদের দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক শূন্যতা পূরণ করল ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’। এখন দেখার বিষয়, নবনির্বাচিত নেতৃত্ব শিক্ষার্থীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি কতটুকু পূরণ করতে পারে।