খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬
অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, সুদহার কমানো কোনো সহজ কাজ নয়। তার মতে, সুদহার নির্ধারণ একটি জটিল প্রক্রিয়া, যা কেবল এক বা দুই ধাপে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। সুদহার অন্যান্য আর্থিক উপকরণ যেমন ট্রেজারি বিল ও সঞ্চয়পত্রের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। একটি উপাদান পরিবর্তন করলে পুরো আর্থিক ব্যবস্থায় প্রভাব পড়ে, তাই হঠাৎ করে সুদহার কমানো বা বাড়ানো ঝুঁকিপূর্ণ।
সম্প্রতি ট্রেজারি বিলের সুদহার ১২ শতাংশ থেকে কমে ১০ শতাংশে নেমেছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এটি ব্যাংক খাতে পুনরায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনেছে এবং বিনিয়োগকারী ও আমানতকারীদের জন্য ইতিবাচক সংকেত বহন করছে।
ড. সালেহউদ্দিন এই মন্তব্য করেন ব্যাংকিং অ্যালমানাক এর সপ্তম সংস্করণের মোড়ক উন্মোচনের প্রধান বক্তৃতায়। অনুষ্ঠানটি শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় এবং সভাপতিত্ব করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও ব্যাংকিং অ্যালমানাক বোর্ড অব এডিটরসের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস ও ঢাকা ব্যাংকের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার, অর্থসচিব খায়রুজ্জামান মজুমদার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নূরুন নাহার, সাবেক ব্যাংকার মোহাম্মদ নূরুল আমিন এবং এইচএসবিসি বাংলাদেশের সিইও মাহবুবুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন গ্রন্থটির নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ জিয়াউদ্দিন আহমেদ ও প্রকল্প পরিচালক আবদার রহমান।
ড. সালেহউদ্দিন ব্যাখ্যা করেন, “সুদহার পরিবর্তন করা বেলুনে চাপ দেওয়ার মতো; একদিকে চাপ দিলে অন্যদিকে প্রসারিত হয়। যদিও ট্রেজারি বিলের সুদহার কমেছে, তবে মূল্যস্ফীতি সামান্য বেড়েছে। এটি শুধু সুদহার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। সরবরাহ ও বাজার নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করাও অপরিহার্য।”
ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, অর্থনীতির স্বাস্থ্য মূল্যায়নের পাঁচটি প্রধান দিক হলো:
১. ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা ও রিজার্ভের অবস্থা
২. ক্ষুদ্র থেকে বড় উদ্যোক্তাদের আস্থা ও স্বস্তি
৩. নীতি ও আর্থিক সহায়তার কার্যকারিতা
৪. দৈনন্দিন জীবনে মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক স্বস্তি
৫. সুশাসন ও তথ্যের যথাযথ নিশ্চয়তা
বিএবির চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার উল্লেখ করেন, “কিছু ব্যাংকের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ অন্যদের হাতে চলে গেলে সুদহার বৃদ্ধি পায়। আশা করা যায়, সরকার পদক্ষেপ নেবে।” অর্থসচিব খায়রুজ্জামান মজুমদার যোগ করেন, “প্রায় দেড় বছর আগে এলসি নিষ্পত্তির জন্য প্রতিদিন বাংলাদেশ ব্যাংকে যেতে হতো, এখন আর তা প্রয়োজন নেই। কোনো ব্যাংক দেউলিয়া হয়নি।”
২০২৬ সালের সুদহার ও মূল্যস্ফীতি (সংক্ষিপ্ত তথ্য)
| আর্থিক উপকরণ | পূর্বের সুদহার | বর্তমান সুদহার | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| ট্রেজারি বিল | ১২–১৩% | ১০% | স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি |
| সঞ্চয়পত্র | ৬–৭% | ৬–৭% | পরিবর্তন নেই |
| মূল্যস্ফীতি | ৫.৫% | ৫.৭% | সামান্য বৃদ্ধি |
বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতায় প্রকাশিত ব্যাংকিং অ্যালমানাক দেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাতের বর্তমান অবস্থা, প্রবণতা এবং স্থিতিশীলতা বিশ্লেষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। এটি নীতি নির্ধারক, বিনিয়োগকারী ও ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলোকে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে।