খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় নিখোঁজের তিন দিন পর খালের চরে পুঁতে রাখা অবস্থায় এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের নাম ফেরদৌস মুন্সি (৩৮)। তিনি মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের মধুখালি গ্রামের বাসিন্দা ও রহমান মুন্সির ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফেরদৌস মুন্সি অসুস্থ বাবাকে দেখে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা তার সন্ধান পেতে আশপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজি করেও কোনো তথ্য পাননি।
রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালবেলায় মধুখালি গ্রামের সাপুড়িয়া খালের পাড়ে স্থানীয়রা নতুন করে মাটি কাটা চিহ্ন লক্ষ্য করেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তারা মাটি সরিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেন। সেই সময় খালের চরে পুঁতে রাখা অবস্থায় ফেরদৌস মুন্সির মরদেহ পাওয়া যায়। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহের গলায় নাইলনের রশি দিয়ে ফাঁসের চিহ্ন রয়েছে। তার পরনে ছিল একটি শর্টপ্যান্ট ও একটি গেঞ্জি। এছাড়া বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি কাটা অবস্থায় পাওয়া গেছে।
কলাপাড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সমীর সরকার বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে ফেরদৌস মুন্সিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| নিহতের নাম | ফেরদৌস মুন্সি |
| বয়স | ৩৮ বছর |
| গ্রাম ও ইউনিয়ন | মধুখালি, মিঠাগঞ্জ ইউনিয়ন, কলাপাড়া |
| নিখোঁজ হওয়া সময় | ৭ জানুয়ারি রাত ৯টা |
| মরদেহ উদ্ধার তারিখ ও সময় | ১১ জানুয়ারি, দুপুর ১টা |
| স্থান | সাপুড়িয়া খালের চর, মধুখালি গ্রাম |
| মরদেহের অবস্থা | গলায় নাইলনের রশি দিয়ে ফাঁস, বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি কাটা, শর্টপ্যান্ট ও গেঞ্জি পরা |
| প্রাথমিক তদন্তের ধারণা | পরিকল্পিত হত্যার সম্ভাবনা |
| পুলিশের পদক্ষেপ | ময়নাতদন্ত, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার চেষ্টা |
স্থানীয়রা বলছেন, ফেরদৌস একজন শান্তপ্রকৃতি মানুষ ছিলেন এবং সম্প্রদায়ের মধ্যে সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক ছিল। ঘটনার রহস্য উদঘাটন না হওয়া পর্যন্ত এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে দ্রুত অগ্রগতি হবে এবং দায়িত্বশীলদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।