খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিকে আধুনিকায়ন এবং অধিকতর অন্তর্ভুক্তিমূলক করার লক্ষ্যে এক ঐতিহাসিক সংস্কার সাধিত হয়েছে। গত ৮ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের সভায় ‘বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি (সংশোধিত) অধ্যাদেশ-২০২৫’ অনুমোদিত হয়েছে। এই নতুন অধ্যাদেশের ফলে একাডেমির কার্যপরিধি ও কাঠামোগত বিন্যাসে দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তন আনা হয়েছে।
বিভাগীয় কাঠামোতে আমূল পরিবর্তন
একাডেমির বর্তমান সাংগঠনিক কাঠামোতে বিভাগের সংখ্যা আগে ছিল ৬টি, যা এই সংশোধিত অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাড়িয়ে ৯টিতে উন্নীত করা হয়েছে। এর মধ্যে দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে ‘চলচ্চিত্র’কে একটি স্বতন্ত্র বিভাগের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভিজ্যুয়াল আর্টের গুরুত্ব বিবেচনা করে ‘আলোকচিত্র’ নামে একটি পৃথক বিভাগ খোলা হয়েছে। বর্তমান সময়ের চাহিদার কথা মাথায় রেখে নিউ মিডিয়া, কালচারাল ব্র্যান্ডিং ও উৎসবের মতো বিষয়গুলোকেও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে।
নিচে একাডেমির পুনর্গঠিত ৯টি বিভাগের তালিকা ও সংশোধিত পরিষদের বৈশিষ্ট্যসমূহ তুলে ধরা হলো:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | বিস্তারিত বিবরণ ও সংস্কারসমূহ |
|---|---|
| মোট বিভাগ সংখ্যা | ৬টি থেকে বাড়িয়ে ৯টিতে উন্নীত করা হয়েছে। |
| নতুন অন্তর্ভুক্ত বিভাগ | ১. চলচ্চিত্র ২. আলোকচিত্র ৩. কালচারাল ব্র্যান্ডিং, উৎসব ও প্রযোজনা। |
| গবেষণা ও প্রযুক্তি | গবেষণা ও প্রকাশনার সাথে ‘নিউ মিডিয়া’র সমন্বয়। |
| পরিচালনা পরিষদ | ৩টির পরিবর্তে ৮টি বিশেষায়িত শাখার ৮ জন প্রতিনিধি। |
| অন্তর্ভুক্তিমূলক সদস্য | ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধি ও জাতীয় দৈনিকের সম্পাদকের অন্তর্ভুক্তি। |
| ভৌগোলিক ভারসাম্য | এক প্রশাসনিক বিভাগ থেকে একের বেশি সদস্য মনোনীত না হওয়া। |
পরিচালনা পরিষদে বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তি
অধ্যাদেশের বড় একটি অংশ জুড়ে রয়েছে একাডেমির নীতিনির্ধারণী ও পরিচালনা পরিষদ পুনর্গঠন। আগে এই পরিষদে মাত্র ৩টি শাখার প্রতিনিধিদের থাকার সুযোগ ছিল, যা সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা তৈরি করত। এখন থেকে শিল্পকলার ৮টি ভিন্ন ভিন্ন বিশেষায়িত শাখা থেকে ৮ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে সদস্য হিসেবে রাখা হবে। এর পাশাপাশি, প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের স্মারক হিসেবে ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ থেকে একজন সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমের ভূমিকা নিশ্চিত করতে একটি জাতীয় দৈনিকের সম্পাদককে পরিষদের সদস্য করা হয়েছে।
ভৌগোলিক ও প্রশাসনিক ভারসাম্য
নতুন এই সংস্কারে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্বের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিষদের সদস্য মনোনয়নের ক্ষেত্রে ভৌগোলিক ভারসাম্য নিশ্চিত করার বিধান রাখা হয়েছে, যার ফলে কোনো একটি নির্দিষ্ট প্রশাসনিক বিভাগ থেকে একাধিক ব্যক্তি সদস্য হতে পারবেন না। এই সিদ্ধান্তের ফলে ঢাকার বাইরের সাংস্কৃতিক সংগঠন ও ব্যক্তিত্বদের রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে।
সাংস্কৃতিক প্রত্যাশা
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, চলচ্চিত্র ও আলোকচিত্রের মতো শক্তিশালী মাধ্যমগুলোকে আলাদা বিভাগের মর্যাদা দেওয়ায় এই শিল্পগুলোর বিকাশ, গবেষণা এবং বিশ্বব্যাপী ‘কান্ট্রি ব্র্যান্ডিং’-এর কাজ ত্বরান্বিত হবে। একাডেমির কার্যক্রম এখন থেকে কেবল গতানুগতিক অনুষ্ঠান পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ও আন্তর্জাতিক মানের শিল্পচর্চায় অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।