খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে চার মাস পলাতক থাকার পর আবদুর রহিম নামের প্রধান শিক্ষক ও স্থানীয় জামায়াত নেতাকে নারী ও শিশু আদালত কারাগারে পাঠিয়েছে। রোববার (১১ জানুয়ারি) আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গেলে বিচারক সাদেকুর রহমান তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
অভিযোগে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর বিকাল ৪টার দিকে উত্তর রায়পুর গ্রামের ওই প্রধান শিক্ষক তার বাসায় তার বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করেন। ঘটনার সময় তিনি ছাত্রীর ভাইকে দোকান থেকে চিপস আনতে পাঠান এবং প্রাইভেট পড়ানোর সুযোগে ছাত্রীকে নির্যাতন করেন। পরে ছাত্রী ঘটনাটি বাড়িতে গিয়ে মায়ের কাছে খুলে বলে। তার মা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে রাতে রায়পুর থানায় প্রধান শিক্ষককে আসামি করে মামলা করেন।
পুলিশ ও স্থানীয়দের বিবরণ অনুযায়ী, আবদুর রহিমের বিরুদ্ধে এর আগে আরও কয়েকবার ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা মো. মাহির জানান, “আমরা বেশ কয়েক মাস আগে থেকেই অভিযোগ শুনছিলাম। ঘটনার প্রমাণ হিসেবে মোবাইল ফোনেও এভিডেন্স রয়েছে।”
অভিযোগ অস্বীকার করে আবদুর রহিম সাংবাদিকদের বলেন, “ছাত্রীর পরিবারের সঙ্গে আমাদের পারিবারিক বিরোধ রয়েছে। এটি একটি ষড়যন্ত্র।” অপরদিকে তার স্ত্রী বলেন, “৫ বছরের সংসারে আমি এমন কিছু দেখিনি। তিনি এমন কাজ করেন না।”
রায়পুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা আবদুল মান্নান জানান, চার মাস পলাতক থাকার পর আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে বিচারক অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠান। ঘটনার পর রাতেই মামলা দায়ের করা হয় এবং বর্তমানে চার্জশিটও আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট সহজভাবে বোঝার জন্য নিম্নে সংক্ষিপ্ত তথ্য টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো:
| তথ্যবিবরণ | বিস্তারিত |
|---|---|
| অভিযুক্তের নাম | আবদুর রহিম |
| বয়স | ৪০ বছর |
| পেশা | প্রধান শিক্ষক, বেগম রোকেয়া স্কুল, রায়পুর |
| রাজনৈতিক পরিচয় | স্থানীয় জামায়াতের সাবেক সাধারণ সম্পাদক |
| অভিযোগ | চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে যৌন হয়রানি |
| মামলা দায়ের তারিখ | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ |
| আত্মসমর্পণ ও কারাগার | ১১ জানুয়ারি ২০২৬, নারী ও শিশু আদালত |
| পরিবার | বিবাহিত, দুই সন্তান ও দ্বিতীয় স্ত্রী |
স্থানীয়দের মধ্যে ঘটনার প্রতিক্রিয়া তীব্র। তারা বলেছেন, “শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এমন ধরনের অপরাধীর প্রতি কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।” পুলিশ ও আদালত তদন্তে জোর দিচ্ছে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রমাণ সন্নিবেশিত চার্জশিট আদালতে পেশ করা হয়েছে।