খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬
আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা তীব্র আকার ধারণ করেছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব বারবার সতর্ক করেও বহু নেতা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা কেন্দ্রীয় নেতাদের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ২০০ বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে মাত্র চারজন আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শীর্ষ নেতৃত্ব আশা করছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরও অনেকে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন।
বিদ্রোহী প্রার্থীদের অব্যাহত প্রতিদ্বন্দ্বিতা দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও নির্বাচনী ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দলের নির্দেশনা অমান্য করলে বিএনপির প্রার্থীরা শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে পারেন। তফসিল অনুযায়ী, ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের চূড়ান্ত তারিখ। ইতিমধ্যেই ১০ জন দলীয় নেতা দলীয় নির্দেশনা অমান্য করায় বহিষ্কার করা হয়েছে।
ঢাকার বাইরে ৬৩টি জেলায় মনোনয়নপত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১১৮টি আসনে প্রায় ১৭৯ জন বিএনপি নেতা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে কিছু আসন বিশেষভাবে শরিক দলের জন্য বরাদ্দ রাখায় বিএনপি নিজস্ব প্রার্থী দেয়নি।
| আসন | প্রার্থীর নাম | মন্তব্য / পরিস্থিতি |
|---|---|---|
| ঢাকা-১২ | – | বিএনপি প্রার্থী দেয়নি; সাইফুল হক প্রার্থী |
| ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ | – | জুমিয়তে উলামায়ে ইসলাম প্রার্থী বরাদ্দ |
| পটুয়াখালী-৩ | হাসান মামুন | দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে মনোনয়ন জমা |
| নারায়ণগঞ্জ-৪ | মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন | স্বতন্ত্র প্রার্থী, দলীয় বরাদ্দ থাকলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা |
| ভোলা-১ | গোলাম নবী আলমগীর | স্বতন্ত্র মনোনয়ন; বিএনপির বরাদ্দ দেয়া হয়েছে |
| নাটোর-১, ঝালকাঠি-১, কিশোরগঞ্জ-১ | চারজন বিদ্রোহী | দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য |
দলীয় নেতৃত্বের হস্তক্ষেপে কিছু বিদ্রোহী প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, সুনামগঞ্জ-৫ আসনের বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান চৌধুরী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। একইভাবে নোয়াখালী-৫ আসনের বিএনপি নেত্রী হাসনা জসীমউদ্দিন মওদুদ ৫ জানুয়ারি তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনের বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল খালেকও দলীয় নির্দেশে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ান।
দলের শীর্ষ নেতারা সতর্ক করেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করলে আরও বহিষ্কার কার্যক্রম বাস্তবায়িত হবে। অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, শীর্ষ নেতৃত্ব বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীভূত প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
এ পরিস্থিতি বিএনপির নির্বাচনী প্রস্তুতি ও মনোনয়ন সমন্বয় প্রক্রিয়ার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিদ্রোহী প্রার্থীদের উপর নজরদারি এবং শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য দলীয় হস্তক্ষেপ এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।