হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও এর আশপাশের এলাকাকে সম্পূর্ণভাবে হর্নমুক্ত বা ‘নীরব এলাকা’ হিসেবে কার্যকর করার লক্ষ্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে একটি সমন্বিত অভিযান চালানো হয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ, আইন প্রয়োগ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি। এই অভিযানে হর্ন বাজিয়ে শব্দদূষণ সৃষ্টির দায়ে সাতজন যানবাহন চালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং তাদের কাছ থেকে মোট ৬ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
ডিএনসিসি সূত্রে জানানো হয়, বিমানবন্দর এলাকা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার। প্রতিদিন হাজারো দেশি-বিদেশি যাত্রী, কূটনৈতিক প্রতিনিধি ও বিদেশি অতিথির আগমন ঘটে এই এলাকায়। ফলে এখানকার পরিবেশগত শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও নীরবতা বজায় রাখা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। হর্নের অতিরিক্ত ব্যবহার শুধু শব্দদূষণই সৃষ্টি করে না, বরং যাত্রী, পথচারী এবং আশপাশে কর্মরত মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত এই অভিযানে ডিএনসিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পাশাপাশি পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। অভিযান চলাকালে যানবাহন চালকদের হর্ন ব্যবহারের আইনগত বিধিনিষেধ সম্পর্কে সরাসরি সতর্ক করা হয় এবং তাদের বোঝানো হয় কোন পরিস্থিতিতে হর্ন ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে যাত্রী ও পথচারীদের মাঝেও শব্দদূষণের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে সচেতনতা সৃষ্টি করা হয়।
অভিযানে অংশ নিয়ে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, শব্দদূষণ একটি নীরব কিন্তু অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিবেশগত সমস্যা। দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত শব্দে বসবাস করলে উচ্চ রক্তচাপ, মানসিক চাপ, ঘুমের ব্যাঘাত এবং শ্রবণক্ষমতা হ্রাসের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তিনি বলেন, “সকলের সম্মিলিত সচেতনতা ও আইনের সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে হর্নমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব। বিমানবন্দর এলাকা হর্নমুক্ত রাখা সরকারের অগ্রাধিকার এবং এটি ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকাতেও বাস্তবায়নের পথ দেখাবে।”
তিনি আরও জানান, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)-এর মাধ্যমে চালকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৫০টি আধুনিক সাউন্ড লেভেল মিটার ব্যবহার করে শব্দমাত্রা পরিমাপ ও নিয়মিত নজরদারি শুরু হয়েছে, যা ধাপে ধাপে আরও বিস্তৃত করা হবে।
ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেন, বিমানবন্দর এলাকার শৃঙ্খলা বজায় রাখা পুরো নগরের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হতে পারে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নিয়মিত অভিযান ও জনসচেতনতার মাধ্যমে আইন মানার প্রবণতা বাড়বে এবং ধীরে ধীরে নগরবাসী হর্নবিহীন চলাচলে অভ্যস্ত হয়ে উঠবে।
নিচের টেবিলে অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| অভিযান পরিচালনাকারী সংস্থা | ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন |
| এলাকা | হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর |
| তারিখ | ২৫ জানুয়ারি |
| জরিমানাপ্রাপ্ত চালক | ৭ জন |
| মোট জরিমানার পরিমাণ | ৬,৫০০ টাকা |
| ব্যবহৃত সাউন্ড লেভেল মিটার | ৫০টি |
ডিএনসিসি জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও নিয়মিত এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে, যাতে বিমানবন্দর এলাকা বাস্তব অর্থেই একটি নীরব ও পরিবেশবান্ধব অঞ্চলে পরিণত হয়।