খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
ইতিহাসের পাতা থেকে—
যে রাইফেলটি গুলি ছোঁড়েনি
(একজন ব্রাহ্মণ পুলিশের হাতে ধরা)
ঐতিহাসিক সলঙ্গা বিদ্রোহ দিবস—আজ
২৭ জানুয়ারি
আজ ২৭ জানুয়ারি।
১৯২২ সালের এই দিনে, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের নির্মম দমননীতির শিকার হয়ে সলঙ্গার হাটে শহীদ হন সহস্র মানুষ। বিলেতি পণ্য বর্জন আন্দোলনের কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ হাটুরে জনতাসহ প্রায় সাড়ে চার হাজার নিরস্ত্র মানুষ পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান—এমনটাই ইতিহাসের ভাষ্য।
ব্রিটিশ শাসনামলে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী অসহযোগ আন্দোলন ও খেলাফত আন্দোলনের জোয়ারে তখন উত্তাল উপমহাদেশ। বিলেতি পণ্য বর্জন করে স্বদেশি পণ্য ব্যবহারের সংগ্রামে সর্বস্তরের মানুষ যুক্ত হচ্ছিলেন। সেই আন্দোলনের ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে তৎকালীন সিরাজগঞ্জ জেলার সলঙ্গায়—একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক জনপদে, যেখানে সপ্তাহে দুই দিন হাট বসত।
১৯২২ সালের ২৭ জানুয়ারি ছিল শুক্রবার—বড় হাটের দিন।
মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশের নেতৃত্বে অসহযোগ ও খেলাফত আন্দোলনের কর্মীরা সেদিন হাটে নামেন বিলেতি পণ্য কেনাবেচা বন্ধ করতে। এই শান্তিপূর্ণ স্বদেশি আন্দোলন দমন করতে দ্রুত ছুটে আসে ব্রিটিশ প্রশাসন। পাবনা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আর. এন. দাস, জেলা পুলিশ সুপার এবং সিরাজগঞ্জ মহকুমা প্রশাসক এস. কে. সিনহাসহ প্রায় ৪০ জন সশস্ত্র লাল পাগড়ীধারী পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
সলঙ্গার গো-হাটায় অবস্থিত ছিল বিপ্লবী স্বদেশি কর্মীদের অফিস। পুলিশ সেখানে কংগ্রেস অফিস ঘেরাও করে মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই তাঁকে মুক্ত করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মুহূর্তেই বিদ্রোহে ফেটে পড়ে সলঙ্গার সংগ্রামী জনতা।
জনতার প্রবল ঢল ও ক্ষোভ দেখে ম্যাজিস্ট্রেট গুলি চালানোর নির্দেশ দেয়। শুরু হয় নির্বিচার বুলেট বৃষ্টি।
৪০টি রাইফেলের মধ্যে মাত্র একটি রাইফেল থেকে কোনো গুলি বের হয়নি—সে রাইফেলটি ছিল একজন ব্রাহ্মণ পুলিশের হাতে।
এই হত্যাকাণ্ডে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আজও নিশ্চিতভাবে জানা যায় না। ইতিহাস শুধু বলে—সলঙ্গার মাটি সেদিন রক্তে লাল হয়েছিল।
সলঙ্গা বিদ্রোহের মধ্য দিয়ে মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশ উপনিবেশিক শাসনের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন। এই রক্তসিক্ত বিদ্রোহ শুধু বাংলার মাটিকেই সিক্ত করেনি, সিক্ত করেছে সমগ্র উপমহাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামকে।
অহিংস ও অসহযোগ আন্দোলনের পথে পরবর্তীকালে যা কিছু অর্জিত হয়েছে—তার পেছনে সলঙ্গার শহীদ রক্তের অবদান অস্বীকার করা যায় না।
আজ এই ঐতিহাসিক দিনে
সলঙ্গা বিদ্রোহের সকল বিদেহী আত্মার প্রতি
গভীর শ্রদ্ধা ও শান্তি কামনা।