খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
উড়িরচরের ফসলি জমিতে মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা বিদেশি জাহাজ উদ্ধারের কাজ এখন তীব্র গতি পেয়েছে। সন্দ্বীপের বিচ্ছিন্ন ইউনিয়ন উড়িরচরের উত্তর-পশ্চিমে চর ন্যাংটা এলাকায় ৪ জানুয়ারি থেকে একাধিক এক্সক্যাভেটর দিয়ে খনন চলছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও উৎসুক মানুষদের ভিড় এলাকায় প্রতিদিন বাড়ছে। বর্তমানে খননকাজে প্রায় ১৭ ফুট গভীর একটি গর্ত খোঁড়া হয়েছে, তবে জাহাজের মূল কাঠামোর দেখা এখনও মেলেনি।
উড়িরচরের বাংলাবাজার থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে কোস্টগার্ড কন্টিনজেন্টের পাশে চলমান এই কাজের জন্য ধানির জমি পার হয়ে গর্ত খোঁড়া হচ্ছে। দুটি এক্সক্যাভেটর দিয়ে ৫০ ফুট চওড়া ও ২০০ ফুট দীর্ঘ জায়গাজুড়ে খনন করা হচ্ছে। মাটির নিচে চাপা পড়া জাহাজটির নাম এমভি টনি বেস্ট, যা ১৯৯৩ সালে লাইবেরিয়াভিত্তিক বেস্ট শিপিং করপোরেশনের মালিকানাধীন অবস্থায় নোয়াখালী উপকূলে আটকে যায়।
স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, জাহাজ আটকে যাওয়ার সময় এলাকায় স্থায়ী বসতি ছিল না, কেবল জলরাশি ও খালি চর ছিল। পরবর্তী তিন দশকে চরটি উঠে আসে এবং বসতি ও চাষাবাদ গড়ে ওঠে। ফলে জাহাজটি মাটির নিচে চাপা পড়ে পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী মুকবুল হোসেন (৭৫), যিনি ‘মুকবুল বাতানি’ নামে পরিচিত, বলেন, “জাহাজ আটকে যাওয়ার সময় চারপাশের লোকজন জাহাজের দামি জিনিসপত্র নিয়ে নিয়েছিল। এরপর ধীরে ধীরে জাহাজ মাটির নিচে চাপা পড়ে।”
জাহাজটির বর্তমান মালিক মেসার্স রায়হান ট্রেডার্স। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাহাজটির দৈর্ঘ্য ৪৭০ ফুট ও প্রস্থ ৬৮ ফুট। এটি বর্তমানে স্ক্র্যাপ বিক্রির জন্য তোলা হচ্ছে।
জাহাজটির মূল তথ্য (সারসংক্ষেপ)
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| নাম | এমভি টনি বেস্ট |
| ধরণ | বাণিজ্যিক কার্গো জাহাজ |
| প্রাথমিক মালিক | বেস্ট শিপিং করপোরেশন, লাইবেরিয়া |
| আটকে যাওয়ার সাল | ১৯৯৩ |
| বর্তমান মালিক | মেসার্স রায়হান ট্রেডার্স |
| দৈর্ঘ্য | ৪৭০ ফুট |
| প্রস্থ | ৬৮ ফুট |
| উদ্ধারকাজ শুরু | ৪ জানুয়ারি ২০২৬ |
| খননের গভীরতা | সর্বোচ্চ ১৭ ফুট, বোরিং ৩২–৫০ ফুট |
১৯৯৩ সালের পর একাধিক নিলাম ও মালিকানার পরিবর্তন ঘটেছে। প্রথমে মুসলিম ট্রেডার্স ৫৪ লাখ টাকায় জাহাজটি কিনে কিছু অংশ কেটে নিলেও পুরো উদ্ধার করতে পারেনি। পরবর্তী মালিকানার চেষ্টা ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে কাজ থেমে যায়। সর্বশেষ ২০১০ সালে ঢাকার ইউছুফ আলীও উদ্ধার চেষ্টা চালান, যা ব্যর্থ হয়।
বর্তমান চেষ্টার নেতৃত্বে মো. জামাল উদ্দিন জানিয়েছেন, ১০ একর জমি ক্রয় করে জাহাজের অবস্থান নিশ্চিত করেছেন। তবে ভারী যন্ত্রপাতি না থাকায় খনন কাজ ধীরগতিতে চলছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বোরিং অনুসন্ধানে জানা গেছে, জাহাজের সর্বনিম্ন অবস্থান ৩২ ফুট এবং সর্বোচ্চ ৫০ ফুট গভীরে। প্রত্যাশা করা হচ্ছে, ৪০ ফুট গভীরে পৌঁছালে জাহাজ দৃশ্যমান হবে।
উদ্ধারকাজ শুরু হওয়ার পর থেকে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল চরমে। দৈনিক ভিড় ও আলোচনা তীব্র হয়ে উঠেছে। কেউ বাহবা দিচ্ছেন, কেউ বলছেন এটি স্থানীয় মাটির ব্যবসা বৃদ্ধির কারণ হয়েছে। তবে এলাকাবাসী একমত, ৩৩ বছর পর মাটির নিচ থেকে জাহাজ তোলার এই কাজ তাদের ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে।