খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো ভোট প্রশাসনের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তায় ব্যস্ত থাকায় মাদক ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান কিছুটা কমে যাওয়ায় সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মাদক দেশে অনায়াসে প্রবেশ করছে। এর ফলে শহর থেকে গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত মাদকের বিস্তার বেড়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) তথ্য অনুযায়ী, ভারতের এবং মিয়ানমারের সীমান্ত এলাকা থেকে যেসব মাদক দেশে প্রবেশ করছে তা বছরের পর বছরই বৃদ্ধি পাচ্ছে। জল, স্থল ও আকাশ—সব পথে মাদক পাচার হচ্ছে।
ডিএনসির মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ বলেন, “নির্বাচন সামনে রেখে আমরা মাদকবিরোধী অভিযান আরও কঠোর করেছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। মাদক কারবারিদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”
মানসের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. অরূপ রতন চৌধুরী জানান, দেশে প্রায় দেড় কোটি মানুষ মাদকসেবী। সরকারের নজরদারি কিছুটা শিথিল হওয়ায় মাদক মাফিয়া চক্র দেশব্যাপী ব্যবসা বাড়াচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, “বড় কোনো রাষ্ট্রীয় আয়োজন বা নির্বাচনের সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যস্ত থাকে। এই সুযোগে মাদক কারবারিরা দেদার ব্যবসা করছে।”
মাদক ব্যবসায় বর্তমানে প্রায় ২ লাখ ব্যক্তি জড়িত, যারা পৃষ্ঠপোষক, ব্যবসায়ী, বাহক ও বিক্রির নেটওয়ার্কে কাজ করছে। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, বছরে মাদকের জন্য খরচ হয় প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা এবং পাচার হয় ৪৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ৫ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা।
২০২৫ সালে সীমান্তসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিচালিত অভিযান থেকে কিছু উল্লেখযোগ্য মাদক জব্দের পরিসংখ্যান:
| মাদকদ্রব্য | পরিমাণ | ধরন/প্রকার |
|---|---|---|
| ইয়াবা ট্যাবলেট | ১ কোটি ৪৭ লাখ ১৪,২৯৮ পিস | ট্যাবলেট |
| ক্রিস্টাল মেথ (আইস) | ১০ কেজি ৪০৮ গ্রাম | স্ফটিক জাতীয় |
| ফেনসিডিল | ১ রাখ ৩৩,৩৯৬ বোতল | তরল/বোতলজাত |
| আটককৃত ব্যক্তি | ২,৩৩৪ জন | পাচারকারী ও সরবরাহকারী |
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, মাদকের বিস্তার শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়, একটি প্রজন্মের মানসিক ও সামাজিক সুস্থতাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। পারিবারিক অশান্তি, বন্ধুদের প্রভাব, শিক্ষার্থীদের কৌতূহল এবং বেকারত্ব মাদকের প্রতি ঝোঁক বাড়াচ্ছে। পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের মধ্যেও মাদকের প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো অভিযান অব্যাহত রেখেছে। র্যাব, পুলিশ, বিজিবি, কোস্টগার্ডসহ সব সংস্থা টার্গেটেড অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি চালিয়ে মাদক চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে।
মাদকবিরোধী কার্যক্রমের এই ধারা অব্যাহত রাখা না হলে নির্বাচনের আগে ও পরে দেশের যুবসমাজকে মাদক থেকে রক্ষা করা কঠিন হবে, এমনই সতর্কবার্তা বিশেষজ্ঞদের।