খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বাণিজ্য আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন রাশিয়ার তেল রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভারত তাঁর দেশের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়ার তেল ক্রয় বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে। তবে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নয়াদিল্লি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এ ধরনের কোনো সংকেত বা সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেনি।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, “ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রতি রাশিয়ার সম্মান রয়েছে, তবে ভারতকে রাশিয়ার ‘উন্নত কৌশলগত অংশীদার’ হিসেবে ধরে রাখার গুরুত্ব আমাদের জন্য অগ্রাধিকারের বিষয়। মস্কো ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
সোমবার (২ জানুয়ারি) ট্রাম্প জানান, ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামানো হয়েছে। এর বিনিময়ে, ভারতের রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ক্রয় বন্ধ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার তেল আমদানি বৃদ্ধি করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। ট্রাম্পের মতে, এ সমঝোতা ইউক্রেন যুদ্ধের ব্যয় কমাতে এবং রাশিয়ার যুদ্ধের সক্ষমতা সীমিত করতে সহায়ক হবে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এই সমঝোতা দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তবে ভারতের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ভারত বরাবরই রাশিয়ার তেল ক্রয়কে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য বলে বিবেচনা করে। বর্তমানে ভারত প্রায় প্রতিদিন ১৫ লাখ ব্যারেল রুশ তেল আমদানি করে, যা দেশের মোট তেল আমদানের এক-তৃতীয়াংশের বেশি।
ঐতিহাসিকভাবে ভারত ও রাশিয়ার সম্পর্ক মূলত প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত অংশীদারিত্বের উপর ভিত্তি করে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সস্তা রুশ তেল পাওয়ার সুযোগ ভারত খুবই গুরুত্ব দিয়ে কাজে লাগাচ্ছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভারতের সফরে এসে বলেছিলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের চাপ সত্ত্বেও ভারতকে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল সরবরাহ অব্যাহত থাকবে।”
নিচের টেবিলে ভারতের রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেলের আমদানি সংক্রান্ত সাম্প্রতিক তথ্য দেখানো হলো:
| দেশ | দৈনিক তেল আমদানি (ব্যারেল) | মোট আমদানের ভাগ (%) | লক্ষ্য/পরিস্থিতি |
|---|---|---|---|
| রাশিয়া | ১৫,০০,০০০ | ৩৩% | স্থিতিশীল সরবরাহ, সস্তা মূল্য |
| যুক্তরাষ্ট্র | ৫,০০,০০০ | ১১% | শুল্ক হ্রাসের বিনিময়ে আমদানি |
| ভেনেজুয়েলা | ২,০০,০০০ | ৪% | বিকল্প উৎস হিসেবে বিবেচিত |
এ পরিস্থিতিতে ভারতকে কঠিন সমীকরণে পড়তে হচ্ছে: একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ, অন্যদিকে রাশিয়ার সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী কৌশলগত ও জ্বালানি সম্পর্ক বজায় রাখা। আগামী মাসগুলোতে নয়াদিল্লির সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং দক্ষিণ এশিয়ার জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।