খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২০২৬ সালের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান ভারতকে বিপক্ষ হিসেবে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এই সিদ্ধান্ত নেয়ার ফলে বড় ধরনের আর্থিক ও আইনি ঝুঁকির মুখোমুখি হতে পারে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ইতিমধ্যেই সতর্ক করেছে যে, ম্যাচটি না হলে টুর্নামেন্টের অফিসিয়াল সম্প্রচারক জিওস্টার আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে।
পাকিস্তান সরকার ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে অনুষ্ঠিত হওয়া ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে অংশ না নেওয়ার নির্দেশ দেয়, যা পিসিবি মানতে বাধ্য হয়। তবে পিসিবি এখনো লিখিতভাবে এই সিদ্ধান্তের কারণ আইসিসিকে জানায়নি।
পিসিবি সূত্রের বরাতে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, ভারতের সঙ্গে ম্যাচ বর্জনের ফলে পাকিস্তান আইসিসির বার্ষিক রাজস্ব অংশীদারিত্ব থেকে প্রায় ৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার হারাতে পারে। এই অর্থের একটি বড় অংশ সরাসরি টুর্নামেন্টের সম্প্রচারক জিওস্টারকে ক্ষতিপূরণের জন্য ব্যবহৃত হতে পারে।
পিসিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ‘যদি পাকিস্তান অবস্থান পরিবর্তন না করে, তাহলে শুধু আর্থিক জরিমানাই নয়, সম্প্রচারকের পক্ষ থেকে আইনি মামলারও মুখোমুখি হতে হবে। আইসিসির ডিসপিউট রেজল্যুশন কমিটিতে (ডিআরসি) গেলেও পিসিবির পক্ষে সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা কম।’
বিশ্বকাপের চার বছরের সম্প্রচার চুক্তিতে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচগুলোকে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে দেখা হয়। এই ম্যাচ বর্জন করলে চুক্তিভঙ্গের অভিযোগে আইসিসি এবং পিসিবি—উভয় পক্ষেরই আইনি ঝুঁকি বাড়বে।
টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম সংস্করণ ৭ ফেব্রুয়ারি শনিবার থেকে শুরু হয়েছে। ভারত ও পাকিস্তান একই গ্রুপে থাকলেও দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর ম্যাচ নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা পুরো টুর্নামেন্টকে প্রভাবিত করতে পারে।
নিচের টেবিলে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের সম্ভাব্য আর্থিক ও আইনি প্রভাব সংক্ষেপে দেখানো হলো:
| বিষয় | বিবরণ | সম্ভাব্য ক্ষতি/ঝুঁকি |
|---|---|---|
| বার্ষিক রাজস্ব অংশীদারিত্ব | ~৩৫ মিলিয়ন ডলার | আইসিসি কর্তৃক কাটা যেতে পারে |
| সম্প্রচারক ক্ষতিপূরণ | জিওস্টার | চুক্তি অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দিতে হতে পারে |
| আইনি পদক্ষেপ | ডিআরসি বা আদালত | মামলা ও জরিমানা উভয় সম্ভাবনা |
| টুর্নামেন্ট প্রভাব | বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্যায় | দর্শক আকর্ষণ ও রেটিং কমতে পারে |
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পাকিস্তান যদি এই অবস্থান বজায় রাখে, তাহলে শুধু টাকার নয়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাদের সুনামও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। টুর্নামেন্টের সময়সূচি, সম্প্রচার এবং সমর্থক চাহিদা—all কিছুই এই সিদ্ধান্তের দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।