খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সচেতনতা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং সময়মতো স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে ক্যান্সারের একটি বড় অংশ প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। তাদের মতে, কার্যকর প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ না নিলে আগামী ১৫–২০ বছরে ক্যান্সার দেশের জন্য বড় জনস্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জে পরিণত হতে পারে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে বিশ্ব ক্যান্সার দিবস-২০২৬ উপলক্ষে ওয়েলবিং ফাউন্ডেশন, জেসিআই ঢাকা ডিপ্লোমেটস এবং স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘ক্যান্সার প্রিভেনশন: লাইফস্টাইল, এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড অ্যাওয়ারনেস’ শীর্ষক ভার্চুয়াল সেমিনারে এ বিষয়গুলো উঠে আসে।
প্রধান বক্তাদের মন্তব্য:
| বক্তা | অবস্থান | মূল বক্তব্য |
|---|---|---|
| প্রফেসর ড. মো. আনোয়ার হোসেন | স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের পাবলিক হেলথ বিভাগের চেয়ারম্যান | প্রাথমিক পর্যায়ের সচেতনতা, নিয়মিত স্ক্রিনিং ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ক্যান্সার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ। |
| প্রফেসর ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার | বাংলাদেশ ক্যান্সার ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট | তামাক ব্যবহার বর্জন, সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম ও সময়মতো পরীক্ষা ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। |
| ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগ | ক্যান্সার চিকিৎসার ব্যয় অনেক পরিবারের জন্য বড় আর্থিক চাপ। কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। |
| ডা. আলি নাফিসা | বিশেষজ্ঞ | নারীদের স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে নিয়মিত স্ক্রিনিং, স্ব-পরীক্ষা এবং প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ অপরিহার্য। |
| আইশা সিদ্দিকা | স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ | স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ; পর্যাপ্ত ফলমূল ও শাকসবজি, প্রক্রিয়াজাত খাবার কমানো প্রয়োজন। |
| মুজাহিদ শুভ | বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম | গণমাধ্যমকে ক্যান্সার নিয়ে সঠিক তথ্য প্রচারে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে। |
| মো. আনিসুল ইসলাম | সচেতনতা বিশেষজ্ঞ | সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল কনটেন্ট ব্যবহার করে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে; তরুণদের অংশগ্রহণ জরুরি। |
সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা একমত হন যে ক্যান্সার প্রতিরোধ কোনো একক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্র—সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানটির মূল উদ্যোক্তা ও সঞ্চালক মো. রাজিকুল হাসান বলেন, ক্যান্সার প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা, জনসচেতনতা এবং কমিউনিটিভিত্তিক উদ্যোগ অপরিহার্য। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে স্বাস্থ্য পেশাজীবী, শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবী ও সাধারণ মানুষ অনলাইনে যুক্ত হয়ে ক্যান্সার প্রতিরোধে করণীয় নিয়ে মতবিনিময় করেন।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, স্বাস্থ্যকর জীবনধারা, নিয়মিত পরীক্ষা ও শিক্ষামূলক প্রচারণার মাধ্যমে ক্যান্সারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা সম্ভব। দেরিতে শনাক্ত হওয়া এবং অপর্যাপ্ত সচেতনতা হলে রোগটি জটিল ও ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। তাই সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়া স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক দুই দিকেই গুরুত্বপূর্ণ।