খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রাজধানীর ধানমন্ডিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) কার্যালয়ে রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান জানিয়েছেন, চলমান নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় দল ও জোটের মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা ও সহিংসতা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি বলেন, নির্বাচন শুরুর প্রাথমিক পর্যায়ে তুলনামূলক সুস্থ প্রতিযোগিতার লক্ষণ দেখা গেলেও ক্রমান্বয়ে বিরোধ, সংঘাত এবং কোন্দল বেড়েছে।
টিআইবি এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ‘গণভোট ও প্রাক-নির্বাচন পরিস্থিতি: টিআইবির পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সংস্থার জ্যেষ্ঠ গবেষণা কর্মকর্তা মো. মাহফুজুল হক গণভোট ও প্রাক-নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন তুলে ধরেন।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “সংবিধান ও আইন অনুযায়ী নির্বাচন সুচারুভাবে সম্পন্ন হবে যদি রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা সঠিক আচরণ নিশ্চিত করেন। তবে এ বিষয়ে মূল দায়িত্ব রাজনৈতিক দলগুলোর।” তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনে ন্যূনতম ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়নের পরামর্শ থাকা সত্ত্বেও কোনো দল তা পূরণ করেনি। বিশেষভাবে জামায়াতে ইসলামী এক নারীও মনোনয়ন না দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ভোটার নিরাপত্তা বিষয়ে বলেন, সংখ্যালঘু ও নারী ভোটারসহ সব শ্রেণির ভোটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট বাহিনীর দায়িত্ব। তবে প্রধান দায়িত্ব দলের ওপরই। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের সময়েও দুর্নীতি অব্যাহত রয়েছে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের স্বচ্ছতার অভাব ভবিষ্যতের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
টিআইবির প্রাক-নির্বাচনী পর্যবেক্ষণে সাতটি মূল বিষয় চিহ্নিত করা হয়েছে:
| ক্র. নং | পর্যবেক্ষণ বিষয় |
|---|---|
| ১ | রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা সহিংস নির্বাচন কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। |
| ২ | পতিত কর্তৃত্ববাদী শক্তির নির্বাচনবিরোধী তৎপরতা অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি বাড়িয়েছে। |
| ৩ | অর্থ, ধর্ম, পেশি, পুরুষতন্ত্র ও গরিষ্ঠতন্ত্র নির্বাচনে প্রভাবশালী। |
| ৪ | নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা কার্যকরভাবে প্রয়োগ হয়নি। |
| ৫ | আচরণবিধি লঙ্ঘন ও অনিয়ম প্রতিরোধে কমিশন অপারগ। |
| ৬ | সরকারি কর্মচারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনিয়ম ও নিষ্ক্রিয়তা লক্ষ্যণীয়। |
| ৭ | রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা কমিশনের সঙ্গে অসহযোগিতা প্রকাশ করেছে। |
গণভোট প্রক্রিয়া সম্পর্কেও ১১টি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ প্রকাশ করেছে টিআইবি, যা মূলত সরকারি ভূমিকা, আইনগত অসঙ্গতি, এবং ভোটার বিভ্রান্তি সংক্রান্ত।
ইফতেখারুজ্জামান সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে বাংলাদেশ টাইমসের কার্যালয় থেকে সাংবাদিকদের উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশে তুলে নেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “যে কোনো গণমাধ্যমকে হেনস্থা করা গ্রহণযোগ্য নয়। এটি মুক্ত সাংবাদিকতার জন্য মধ্যযুগীয় সহিংসতার দৃষ্টান্ত।”
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির আউটরিচ ও কমিউনিকেশন পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম সঞ্চালনা করেন। এছাড়া সংস্থার উপদেষ্টা (নির্বাহী ব্যবস্থাপনা) সুমাইয়া খায়ের ও গবেষণা পরিচালক মোহাম্মদ বদিউজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।