খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রাজধানীর মানিকনগর এলাকায় একজন নারী ব্যাংক কর্মকর্তার বাসভবন থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ চুরির ঘটনায় এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। চুরির এই দুঃসাহসিক ঘটনার সাথে অন্য কেউ নয়, বরং ভুক্তভোগীর আপন মামাতো ভাই সরাসরি জড়িত বলে প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। এই চুরির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেফতারকৃত দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারী ব্যাংক কর্মকর্তা তাজরীন খান আদ্রিতা মানিকনগর এলাকার একটি বাসায় বসবাস করেন। গত ২০ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বরের মধ্যে কোনো এক সময়ে তার বাসার আলমারির ড্রয়ারে সংরক্ষিত প্রায় ১১ ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা নিখোঁজ হয়। আদ্রিতার অনুপস্থিতি বা অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে অত্যন্ত সুকৌশলে এই চুরির ঘটনা ঘটানো হয়। প্রাথমিকভাবে বিষয়টি পরিবারের অভ্যন্তরীণ চুরির সন্দেহ না হলেও, তদন্তে বেরিয়ে আসে যে আদ্রিতার আপন মামাতো ভাই সাদমান সাকিব সৌমিক এই অপকর্মের মূল হোতা।
চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তাজরীন খান আদ্রিতা প্রথমে রাজধানীর মুগদা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরবর্তীতে পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে সৌমিকের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তিনি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। পুলিশ সৌমিককে গ্রেফতারের পর নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি স্বর্ণালংকার চুরির কথা স্বীকার করেন এবং জানান যে, চুরি করা স্বর্ণগুলো রাজধানীর একটি জুয়েলারি দোকানে বিক্রি করে দিয়েছেন।
সৌমিকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মুগদা থানা পুলিশ রাজধানীর ‘মায়মুনা জুয়েলার্স’-এ অভিযান চালায় এবং চোরাই স্বর্ণালংকার কেনার অপরাধে দোকানের মালিক সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেফতার করে। গত সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই কাইয়ুম বাহাদুর আসামিদের আদালতে হাজির করে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন জানান। আদালত উভয়পক্ষের শুনানি শেষে প্রত্যেকের একদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এক নজরে মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও আসামিদের বিবরণ:
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| ভুক্তভোগী | তাজরীন খান আদ্রিতা (পেশায় ব্যাংকার) |
| ঘটনাস্থল | মানিকনগর, ঢাকা |
| প্রধান আসামি | সাদমান সাকিব সৌমিক (মামাতো ভাই) |
| সহযোগী আসামি | সাদ্দাম হোসেন (জুয়েলারি মালিক) |
| চুরিকৃত স্বর্ণ | ১১ ভরি (বাজারমূল্য আনুমানিক ২৭ লাখ টাকা) |
| নগদ অর্থ | ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা |
| বর্তমান অবস্থা | ১ দিনের পুলিশি রিমান্ডে |
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই কাইয়ুম বাহাদুর জানিয়েছেন, রিমান্ড চলাকালীন আসামিদের কাছ থেকে চুরিকৃত অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধার এবং এই চক্রের সাথে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা জানার চেষ্টা করা হবে। বিশেষ করে, পারিবারিক সদস্যদের মাধ্যমেই এ ধরনের বড় চুরির ঘটনা রাজধানীর বাসিন্দাদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে। পুলিশ সাধারণ মানুষকে মূল্যবান জিনিসপত্র ও নগদ টাকা সংরক্ষণে আরও বেশি সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
এই মামলার পরবর্তী শুনানি রিমান্ড শেষে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদের প্রাপ্ত তথ্য আদালতে উপস্থাপন করবে। চুরিকৃত ২৭ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার সম্পূর্ণরূপে উদ্ধার করা সম্ভব হয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।