খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 29শে মাঘ ১৪৩২ | ১১ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
শরীয়তপুরের নড়িয়া পৌরসভার দক্ষিণ বৈশাখীপাড়া এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর একটি নির্বাচনী কার্যালয় থেকে ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনী। এ সময় কার্যালয়ে উপস্থিত একটি ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা সরকারি শিক্ষক গোলাম মোস্তফাকে আটক করে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
বুধবার সন্ধ্যায় নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারক কমিটির বিচারক ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুজন মিয়া দ্রুত বিচার আদালত পরিচালনা করেন। পরে নড়িয়া থানার পুলিশ দণ্ডপ্রাপ্ত পোলিং কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠায়।
দণ্ডপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা নড়িয়ার ১২৭ নম্বর হাজী সৈয়দ আহম্মদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তিনি উপজেলার পঞ্চপল্লী উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে পোলিং কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন।
শরীয়তপুর–২ আসনে এবারের নির্বাচনে মোট আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো জামায়াতে ইসলামীর মাহমুদ হোসেন ও বিএনপির সফিকুর রহমান।
নড়িয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাকি দাস প্রথম আলোকে জানান, “নড়িয়া পৌরসভার একটি বাড়িতে জামায়াতে ইসলামীর কর্মীরা নির্বাচনী কাজে টাকা বিতরণ করছেন—এমন খবরের ভিত্তিতে যৌথ বাহিনী সেখানে অভিযান চালায়। সেখানে একটি টাকা বিতরণের তালিকা, ল্যাপটপ ও হার্ডডিস্কও উদ্ধার করা হয়। ওই কার্যালয়ে উপস্থিত শিক্ষক কেন গিয়েছিলেন তা ব্যাখ্যা করতে না পারায় তাকে আইনের আওতায় আনা হয়।”
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নড়িয়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ বৈশাখীপাড়া এলাকায় প্রার্থী মাহমুদ হোসেন ভাড়া নেওয়া একটি বাড়িতে নির্বাচনী কার্যালয় চালাচ্ছিলেন। অভিযানের সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কয়েকজন কর্মী।
প্রার্থী মাহমুদ হোসেনের মিডিয়া সেলের প্রধান মাসুদ কবির অভিযোগ করেছেন, “নির্বাচনী এলাকায় ১৩৬টি ভোটকেন্দ্রে আমাদের কর্মীরা দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁদের যাতায়াত ও খাবারের জন্য ওই টাকা রাখা হয়েছিল। লক্ষ্যভ্রষ্টভাবে প্রশাসন অভিযান চালিয়েছে। অন্যদিকে, বিভিন্ন ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে অবৈধভাবে টাকা বিতরণের অভিযোগ আমরা করেছিলাম, যা উপেক্ষা করা হয়েছে।”
এ ঘটনায় রাতে বিএনপি প্রার্থী সফিকুর রহমান নড়িয়া কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, “জামায়াতের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে ভোটারদের প্রভাবিত করতে টাকা বিতরণ করা হচ্ছে। প্রশাসনকে আরও কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে। ভোটারদের ভয়ভীতি বা অর্থ দিয়ে প্রভাবিত করা সম্ভব নয়।”
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| উদ্ধারকৃত অর্থ | ৭,২০,০০০ টাকা |
| উদ্ধার স্থল | নড়িয়া পৌরসভার দক্ষিণ বৈশাখীপাড়া, জামায়াতের নির্বাচনী কার্যালয় |
| আটক ব্যক্তি | গোলাম মোস্তফা (সহকারী শিক্ষক ও পোলিং কর্মকর্তা) |
| দণ্ড | দুই বছরের কারাদণ্ড |
| অভিযানের সময় | ২০২৬ সালের বুধবার, সন্ধ্যায় |
| উদ্ধারকৃত অন্যান্য সামগ্রী | ল্যাপটপ, হার্ডডিস্ক, টাকা বিতরণের তালিকা |
| নির্বাচনী আসন | শরীয়তপুর–২ |
| নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী | ৮ জন প্রার্থী (জামায়াত ও বিএনপি উল্লেখযোগ্য) |