খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নির্বাচিত নতুন সরকার একটি স্থিতিশীল ও স্বস্তিদায়ক অর্থনীতি পেতে যাচ্ছে না। বরং তারা দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে ভঙ্গুর অর্থনীতি, ঋণপ্রবণতা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির মতো জটিল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের উচিত দ্রুত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, ব্যবসায়ীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং বিনিয়োগ ও রাজস্ব বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা।
বাংলাদেশ ব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং বিশ্বব্যাংক পৃথকভাবে প্রতিবেদনে নতুন সরকারের জন্য অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার দিক নির্দেশনা দিয়েছে। তবে এসব বাস্তবায়ন করা সহজ নয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নির্বাচনের পর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে এলে বিনিয়োগের পথ খোলা যাবে। এ জন্য গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমাতে হবে এবং ঋণের সুদের হার নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। তবে চলমান মূল্যস্ফীতি ৮.৫৮ শতাংশের কারণে নীতি সুদের হার কমানো আপাতত সম্ভব নয়।
নিম্নে নতুন সরকারের জন্য অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও প্রভাব সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| চ্যালেঞ্জ | বর্তমান পরিস্থিতি | সম্ভাব্য প্রভাব |
|---|---|---|
| রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা | নির্বাচনের পর উন্নতির আশা | বিনিয়োগ বাড়ানো সহজ হবে |
| মূল্যস্ফীতি | ৮.৫৮% | ঋণের সুদের হার কমানো কঠিন |
| ঋণ নির্ভরতা | উচ্চ | বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ সীমিত হবে |
| রাজস্ব আয় | কম | সরকারি ব্যয় ও নতুন বেতন স্কেল প্রয়োগে চাপ বৃদ্ধি |
| ব্যাংকিং খাত | দুর্বল | ঋণ সরবরাহে সীমাবদ্ধতা |
| বৈদেশিক দেনা ও রিজার্ভ | উন্নতি | রেমিট্যান্স বৃদ্ধি ও শিল্পে গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ সহজ হবে |
ড. মোস্তফা কে মুজেরী, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ, উল্লেখ করেছেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে অর্থনীতির ঘাটতি ও রাজস্ব আয় হ্রাসের কারণে নতুন সরকার বড় ধরনের ঘাটতির মুখোমুখি হবে। ব্যবসায়িক আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়ানোতে অন্তত দুই বছর সময় লাগবে।”
বিশ্ব ব্যাংকও জানিয়েছে, নির্বাচনের পর নতুন সরকার ক্ষমতায় এলে চাহিদা বৃদ্ধি পাবে, যা বিনিয়োগ ও অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য সহায়ক হবে। তবে এই কার্যক্রম সফল করতে চলমান সংস্কার বজায় রাখা, রাজস্ব আয় বাড়ানো এবং আর্থিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
সংক্ষেপে, নতুন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো:
ঋণনির্ভরতা নিয়ন্ত্রণ, মূল্যস্ফীতি হ্রাস, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং রাজস্ব সংস্কার।
নতুন সরকার যদি এসব ক্ষেত্রে সঠিক পদক্ষেপ নিতে পারে, তবে দেশের অর্থনীতি ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার হবে এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পথে আগাবে।