খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলশ্রুতিতে বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) আয়োজিত হতে যাচ্ছে। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্মরণীয় করে রাখতে এবং বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক সুসংহত করার লক্ষ্যে চীন, ভারত ও পাকিস্তানসহ মোট ১৩টি দেশের সরকারপ্রধানকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
শনিবার রাতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এই আমন্ত্রণপত্রসমূহ পাঠিয়েছেন। জানা গেছে, নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়া দল বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরামের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনার ভিত্তিতেই আমন্ত্রিত দেশগুলোর তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়া ও মুসলিম বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর এই উপস্থিতি নতুন সরকারের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও শক্তিশালী বৈদেশিক নীতির প্রতিফলন ঘটাবে।
আমন্ত্রিত ১৩টি দেশের তালিকা নিচে সারণি আকারে উপস্থাপন করা হলো:
| অঞ্চলের নাম | আমন্ত্রিত দেশসমূহ |
| দক্ষিণ এশিয়া | ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ, ভুটান |
| পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় | চীন, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই |
| মধ্যপ্রাচ্য | সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, তুরস্ক |
আগামী মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করবে। সচরাচর বঙ্গভবনের দরবার হলে এই অনুষ্ঠান হয়ে থাকলেও, এবারই প্রথম জনগণের সংসদের পাদদেশে এমন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। এর আগে একই দিন সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন।
উল্লেখ্য যে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি ও তার মিত্র জোট দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। এরপর থেকেই দেশে এক উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। আইন মন্ত্রণালয় এবং সংসদ সচিবালয় যৌথভাবে এই মেগা অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা মহানগর পুলিশ এবং বিশেষ বাহিনীগুলো সংসদ ভবন এলাকা ও তার আশপাশে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে।
ভারত ও পাকিস্তানের সরকারপ্রধানদের একসঙ্গে আমন্ত্রণ জানানো এবং চীনের মতো বিশ্বশক্তিকে এই তালিকায় রাখা বর্তমান সরকারের অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক চাল হিসেবে দেখা হচ্ছে। তুরস্ক ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর উপস্থিতি বাংলাদেশে নতুন করে বৈদেশিক বিনিয়োগের দ্বার উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। মূলত একটি অংশগ্রহণমূলক ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সরকার গঠনের এই উৎসবকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরাই অন্তর্বর্তী সরকারের মূল লক্ষ্য।
বিপুল ভোটে বিজয়ী বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই আমন্ত্রিত বিশ্বনেতাদের উপস্থিতিতে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বে একটি আধুনিক, গণতান্ত্রিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে নিজের শক্ত অবস্থান জানান দেবে। শপথ অনুষ্ঠানের পর আমন্ত্রিত অতিথিদের সম্মানে বিশেষ নৈশভোজের আয়োজন করার পরিকল্পনাও রয়েছে।