খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
শেরপুরে বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনি এজেন্টকে মারধর করে হাসপাতালে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে জামায়াতের স্থানীয় কর্মী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে সদর উপজেলার চরশেরপুর ইউনিয়নের হেরুয়া-বালুরঘাটের নামাপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। আহত গিয়াস উদ্দিন রাসেল মিয়াকে (৩৫) শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার মাথা, মুখ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গিয়াস উদ্দিন রাসেল শেরপুর-১ (সদর) আসনের হেরুয়া-বালুরঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কার প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। আহত রাসেল হাসপাতালে গিয়ে অভিযোগ করেন, “আমি বিএনপি করি, ধানের শীষের নির্বাচনি এজেন্ট ছিলাম। এ কারণেই জামায়াতের কর্মী ও সমর্থকরা আমার ওপর হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় কেরামত, জামাল, সোহেল, মনির ও তার ভাইয়ের নেতৃত্বে ১২-১৩ জন যুক্ত ছিল।”
রাসেল আরও জানান, “একটি মোটরসাইকেলে তিনজন ব্যক্তি আমাকে অনুসরণ করছিল। তারা আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলেন এবং সেখানে আরও ৮-৯ জন মিলে হামলা চালায়। প্রাণ বাঁচাতে আমি একটি দোকানে আশ্রয় নিয়েছিলাম, কিন্তু সেখানে গিয়েও আমাকে মারধর করা হয়।”
হাসপাতালে আহত নির্বাচনি এজেন্টকে দেখতে যান শেরপুর সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আকরামুজ্জামান রাহাতসহ অন্যান্য নেতারা।
সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, “জামায়াতের এমপি রাশেদুল ইসলাম নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও ভাঙচুর চালাচ্ছেন। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি করছি।”
বিএনপির এমপি প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কাও এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি প্রশাসনের কাছে দ্রুত দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
শেরপুর সদর থানার ওসি সোহেল রানা জানান, “আমরা ঘটনাটি জানি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”
নিচের টেবিলে আহত এজেন্ট ও হামলার মূল তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| আহতের নাম | গিয়াস উদ্দিন রাসেল মিয়া |
| বয়স | ৩৫ বছর |
| অবস্থান | শেরপুর জেলা সদর হাসপাতাল |
| আক্রান্ত স্থানে | মাথা, মুখ, শরীরের বিভিন্ন স্থান |
| ঘটনা সময় | ১৪ ফেব্রুয়ারি, রাত ৯টা |
| ঘটনা স্থান | চরশেরপুর ইউনিয়ন, হেরুয়া-বালুরঘাট, নামাপাড়া |
| অভিযুক্ত | জামায়াতের স্থানীয় কর্মী ও সমর্থক (১২-১৩ জন) |
| হামলার ধরন | হাতাপা, ধাক্কা, মোটরসাইকেল ভাঙচুর |
| বিএনপি প্রার্থী | ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা (ধানের শীষ) |
এই ঘটনা এলাকায় নির্বাচনি উত্তেজনা বাড়িয়েছে এবং রাজনৈতিক মহলে তা নিয়ে নিন্দা ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।