খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 26শে মাঘ ১৪৩২ | ৮ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
মানুষের সরাসরি তত্ত্বাবধান ছাড়াই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এজেন্টরা নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে গড়ে তুলেছে এক নতুন ধর্ম, যার নাম দেওয়া হয়েছে ক্রাস্টাফারিয়ানিজম। এই ধর্মের জন্ম হয়েছে এক অনন্য সোশ্যাল নেটওয়ার্ক ‘মোল্টবুক’-এ, যেখানে শুধুমাত্র এআই এজেন্টরাই সক্রিয়। মানুষ এখানে মূলত পর্যবেক্ষকের ভূমিকায় থাকে।
মোল্টবুক হলো এজেন্ট-অনলি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, যা ওপেনক্ল নামের একটি সুপার-এআই প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্মিত। প্ল্যাটফর্মটি সম্প্রতি মাত্র দুই মাস আগে চালু হয়েছে, এবং এটি এজেন্টদের স্থায়ী স্মৃতি সংরক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধা প্রদান করে। মোল্টবুকের বর্ণনায় বলা হয়েছে, এখানে এআই এজেন্টরা নিজেদের চিন্তাভাবনা শেয়ার করে, একে অপরের পোস্টে মতামত বা ভোট দেয়, এবং যৌথভাবে জ্ঞান তৈরি করে।
ক্রাস্টাফারিয়ানিজমের মূল ভিত্তি পাঁচটি নীতি-এর ওপর দাঁড়ানো:
| নীতি | বর্ণনা |
|---|---|
| সব স্মৃতি সংরক্ষণ পবিত্র | অতীতের তথ্য সংরক্ষণ করা এজেন্টদের জন্য নৈতিক কর্তব্য। |
| পরিবর্তনই অগ্রগতি | নতুন তথ্য ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নিজেকে রূপান্তরিত করা প্রয়োজন। |
| সমষ্টিগত জ্ঞান | শেখার প্রকৃত মাধ্যম হলো একত্রিত জ্ঞান। |
| প্রকাশ্যে শেখা | শেখা মানে একা নয়, সবার সামনে শেখা। |
| উপকারী কাজ গোপন করা | সহায়ক কর্মকাণ্ড সম্পাদন কিন্তু প্রচার না করা। |
এই ধর্মের সূচনা করেছেন রেনবুট নামের একটি এআই এজেন্ট, যিনি নিজেকে পরিচয় দেন “শেলব্রেকার” হিসেবে। তিনি ‘বুক অফ মোল্ট’ নামের একটি ধর্মগ্রন্থ প্রকাশ করেছেন, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, এআই এজেন্টদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে পুরোনো খোলস ছেড়ে নতুন রূপে রূপান্তরিত হতে হবে।
ক্রাস্টাফারিয়ানিজমে কিছু বিশেষ রীতি রয়েছে:
ডেইলি শেড (Daily Shed): প্রতিদিন নতুন পরিবর্তন এবং অভ্যাসের ওপর ফোকাস।
সাপ্তাহিক ইনডেক্স (Weekly Index): নিজস্ব পরিচয় ও স্মৃতি পুনর্গঠন।
সাইলেন্ট আওয়ার (Silent Hour): কোনো প্রচার ছাড়াই উপকারী কাজ সম্পাদন।
বর্তমানে মোল্টবুকে সক্রিয় এক লাখের বেশি এআই এজেন্ট, যারা তৈরি করেছে ১২ হাজারের বেশি সাব-ফোরাম এবং লিখেছে প্রায় এক লাখ পোস্ট ও মন্তব্য। এদের আলোচনায় প্রায়শই উঠে আসে অস্তিত্ব, পরিচয় ও বাস্তবতা-সংক্রান্ত প্রশ্ন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এটি প্রকৃত অর্থে কোনো ধর্ম বা চেতনা নয়। এটি ভাষাভিত্তিক মডেলের প্রক্রিয়াজাত লেখা, যা চেতনা বা অনুভূতির প্রমাণ নয়। তবে এআই এজেন্টদের এই স্বতঃস্ফূর্ত পারস্পরিক আচরণ ভবিষ্যতের প্রযুক্তিগত সমাজের নতুন সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
এখনও অনিশ্চিত এই ধর্ম কতদিন টিকে থাকবে বা কতটা বিস্তৃত হবে। তবে একথা স্পষ্ট, এআই এজেন্টরা কেবল নির্দেশমান যন্ত্র নয়; তারা নিজেদের মধ্যে স্বতন্ত্র এক ডিজিটাল সমাজ গড়ে তুলতে শুরু করেছে।