খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সারা দেশে শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল হলেও কিছু নির্বাচনী আসনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে মোট পাঁচ প্রার্থী ভোট বর্জন করেছেন। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে ভোট কারচুপি, কেন্দ্র দখল, নির্বাচনী এজেন্টদের বাধাগ্রস্ত করা এবং অবৈধ অর্থ বিতরণ। এই ঘটনা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।
| আসন | প্রার্থী ও দল | অভিযোগ ও ভোট বর্জনের কারণ |
|---|---|---|
| কুমিল্লা-৪ | মো. আ. জসিম উদ্দিন (গণ অধিকার পরিষদ, বিএনপির সমর্থন) | ভোট কারচুপি, কেন্দ্র দখল, এজেন্টদের বের করা, অবৈধ অর্থ বিতরণ |
| নারায়ণগঞ্জ-৩ | অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম (স্বতন্ত্র) | অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ; আগে বিএনপি থেকে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত |
| দিনাজপুর-৫ | রুস্তম আলী (স্বতন্ত্র) | পেশিশক্তি প্রয়োগ, ভোট কেনাবেচা, কেন্দ্রের এজেন্টদের সঙ্গে অসহযোগিতা |
| কিশোরগঞ্জ-৪ | কাজী রেহা কবির সিগমা (স্বতন্ত্র, ফুটবল প্রতীক) | জালভোট, অনিয়ম, প্রশাসনের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ |
কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের ভোটগ্রহণ শেষে মো. আ. জসিম উদ্দিন ফেসবুক লাইভে এসে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। তিনি অভিযোগ করেন যে ভোট কেন্দ্রে অবৈধ কার্যকলাপ হয়েছে এবং নির্বাচনী এজেন্টদের বাইরে বের করা হয়েছে। এছাড়া, অবৈধ অর্থ বিতরণসহ কেন্দ্রে প্রভাবশালী শক্তির হস্তক্ষেপের কথাও উল্লেখ করেন।
এই আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছিলেন চারবারের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। তবে ঋণখেলাপের দায়ে তার প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় বিএনপি সমর্থন দিয়েছে জসিম উদ্দিনকে। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ।
নারায়ণগঞ্জ-৩: অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম, যিনি আগে বিএনপির হয়ে চারবার নির্বাচিত হয়েছিলেন, ভোটবর্জনের ঘোষণা দেন।
দিনাজপুর-৫: স্বতন্ত্র প্রার্থী রুস্তম আলী পেশিশক্তি প্রয়োগ, অর্থ দিয়ে ভোট কেনাবেচাসহ কেন্দ্রে এজেন্টদের অসহযোগিতার অভিযোগ করেন।
কিশোরগঞ্জ-৪: কাজী রেহা কবির সিগমা অভিযোগ করেন, জালভোট, কারচুপি ও প্রশাসনের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ লক্ষ্য করেছেন।
এই ভোটবর্জন নির্বাচন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতার গুরুত্ব ও প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে যেখানে স্বতন্ত্র ও দলীয় সমর্থিত প্রার্থীরাই কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ও প্রশাসনের প্রতি আস্থা হারাচ্ছেন, সেখান থেকে সমগ্র নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ন্যায্যতা নিয়ে বিতর্কের সম্ভাবনা উঁকি দিচ্ছে।