খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 21শে মাঘ ১৪৩২ | ৩ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়ীয়া ইউনিয়নের পল্লী খোরদ গ্রামে পিতলের একটি কলসির ভিতর থেকে পাঁচটি সোনালি রঙের ধাতব মূর্তি উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশ। সোমবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে এই যৌথ অভিযানে মূর্তিগুলো উদ্ধার করা হয়। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছেন, এগুলো স্বর্ণের তৈরি নয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খোরদ গ্রামের বাসিন্দা চিনি উদ্দিনের ছেলে আবুল মুজাম কিছু দিন আগে নিজের নতুন বাড়ি নির্মাণের জন্য ভিটার মাটি খুঁড়ে একটি পুরোনো পিতলের কলসি পেয়ে যান। কলসিটি আবিষ্কার হওয়ার পর তিনি তা নিজের উঠোনে মাটির নিচে পুঁতে রাখেন।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবির একটি দল আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের সহায়তায় মুজামের বাড়িতে অভিযান চালায়। অভিযানে কলসিটি উদ্ধার করা হলে, এর ভিতরে লাল কাপড়ে মোড়ানো পাঁচটি দেব-দেবীর ধাতব মূর্তি পাওয়া যায়। সোনালি রঙের হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে দ্রুতই ‘স্বর্ণের গুপ্তধন’ উদ্ধারের গুজব ছড়িয়ে পড়ে।
উদ্যোগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে। প্রাথমিক পরীক্ষায় নিশ্চিত করা হয় যে মূর্তিগুলোতে স্বর্ণের উপস্থিতি নেই। চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, মূর্তিগুলোতে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫৩ থেকে ৬০ শতাংশ তামার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। সোনালি প্রলেপ থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল।
প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে, মূর্তিগুলো পুরাকীর্তি হতে পারে। সংরক্ষণের ধরন, মোড়ক এবং গঠন পরীক্ষা করে প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব যাচাই করা হবে। পরবর্তীতে আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
উদ্ধারকৃত মূর্তিগুলোর সংক্ষিপ্ত তথ্য নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:
| ক্রমিক | মূর্তির ধরন | উপাদান (%) | রঙ | অবস্থান |
|---|---|---|---|---|
| ১ | দেবী মূর্তি | তামা ৫৩% | সোনালি | লাল কাপড়ে মোড়ানো |
| ২ | দেবী মূর্তি | তামা ৫৫% | সোনালি | লাল কাপড়ে মোড়ানো |
| ৩ | দেবী মূর্তি | তামা ৫৮% | সোনালি | লাল কাপড়ে মোড়ানো |
| ৪ | দেবতা মূর্তি | তামা ৬০% | সোনালি | লাল কাপড়ে মোড়ানো |
| ৫ | দেবতা মূর্তি | তামা ৫৬% | সোনালি | লাল কাপড়ে মোড়ানো |
উদ্ধারকৃত মূর্তিগুলো স্থানীয় প্রত্নতাত্ত্বিকদের পর্যবেক্ষণের পর চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন ও সংস্কৃতি বিষয়ক কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।