ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাত দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। তেহরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। ইসরাইল ও সাইপ্রাসেও হামলা চালানো হয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনায় দেখা যাচ্ছে, এই যুদ্ধ সীমিত না থেকে ক্রমশ দক্ষিণ এশিয়ার কাছাকাছি অঞ্চলেও বিস্তার পাচ্ছে।
শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলে বুধবার মার্কিন সাবমেরিন থেকে চালানো হামলায় ইরানের যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএস ডেনা ডুবে যায়। এ ঘটনার ফলে অন্তত ৮০ জন নিহত এবং ৬৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ৩২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। জাহাজটিতে সবমিলিয়ে ১৮০ জন আরোহী ছিলেন। হামলার দায় স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানও পাল্টা হামলা চালিয়েছে। কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। একইসঙ্গে দুবাইয়ের মার্কিন কনস্যুলেটে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইসরায়েলেও হিজবুল্লাহর হামলায় অন্তত দুই সেনা সদস্য আহত হয়েছেন।
বৃহৎ হামলা-পাল্টা হামলার ধারাবাহিকতায় নিহতের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে চলেছে। ইরানি আধা-সরকারি সংস্থা তাসনিমের রিপোর্ট অনুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা এক হাজার ৪৫ জনে পৌঁছেছে। তেহরানের স্কুলে ১৬০ শিশু নিহত হওয়ায় জাতিসংঘ “গভীর উদ্বিগ্ন” হয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষকৃত্য অনুষ্ঠানও স্থগিত করা হয়েছে। নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে খামেনিপুত্র মোজতবারের নাম উঠেছে, তবে তাকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়েছে ইসরায়েল।
সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রধান ঘটনা (সারণি)
| তারিখ | স্থান | ঘটনা | নিহত | আহত/নিখোঁজ | মন্তব্য |
|---|---|---|---|---|---|
| ২৮ ফেব্রুয়ারি | তেহরান | যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যৌথ হামলা, খামেনি নিহত | ৩ | – | শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও পরিবারের সদস্য নিহত |
| ২৯ ফেব্রুয়ারি | দক্ষিণ ইরান | বালিকা বিদ্যালয়ে হামলা | ১৬০+ | – | বয়স ৬–১১ বছরের শিশুদের লক্ষ্যবস্তু |
| ০৪ মার্চ | শ্রীলঙ্কা উপকূল | আইআরআইএস ডেনা জাহাজে টর্পেডো হামলা | ৮০ | ৬৮ | ৩২ জন উদ্ধার |
| ০৪ মার্চ | কাতার | যুক্তরাষ্ট্রের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা | ০ | ০ | এক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত |
| ০৪ মার্চ | দুবাই | মার্কিন কনস্যুলেটে ড্রোন হামলা | ০ | ০ | ধোঁয়া ও আগুনের ঘটনা প্রত্যক্ষ |
ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রায় ২০০টি তেলের ট্যাঙ্কার আটকে রেখেছে। এতে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে ভোলাটিলিটি বৃদ্ধি পেয়েছে। ৬০টি সুপারট্যাঙ্কার বৈশ্বিক তেলের প্রায় ৮% এখানে আটকে আছে।
ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার কোনো ইচ্ছা নেই এবং তারা দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। ন্যাটো ও স্থানীয় সেনাবাহিনী একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করছে। তুরস্কের আকাশসীমায় ন্যাটো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে।
বিশ্বমঞ্চে এখন উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সংঘাতে নিহত ও আহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে এবং দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা প্রভাবিত হচ্ছে। শান্তি ও মধ্যস্থতার সম্ভাবনা এখনও অনিশ্চিত, তবে সংঘাত ক্রমশ বৃহত্তর আকার নিচ্ছে।
মোট কথায়, এই সংঘাত শুধুমাত্র মধ্যপ্রাচ্য নয়, দক্ষিণ এশিয়া এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহকেও প্রভাবিত করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা এবং অর্থনীতির ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে।