খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৮ জুলাই ২০২৫
গাজায় চলমান মানবিক সংকটের প্রেক্ষাপটে দখলদার ইসরাইলের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে হুথি নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী।
স্থানীয় সময় রবিবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইয়েমেনি সেনাবাহিনী বিশ্বের সব জাতির প্রতি আহ্বান জানায়, যেন তারা ইসরায়েলকে গাজার ওপর আগ্রাসন বন্ধ করতে এবং অবরোধ প্রত্যাহার করতে চাপ সৃষ্টি করে—যাতে বড় সংঘাত এড়ানো যায়।
হুথি নিয়ন্ত্রিত বাহিনীটি দাবি করেছে, ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্ভোগের প্রেক্ষিতে তারা এই পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। ইয়েমেনি বাহিনী জানায়, গাজায় দীর্ঘমেয়াদি ইসরায়েলি অবরোধ ও সামরিক হামলার কারণে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে এবং সেখানে ভয়াবহ গণহত্যা চলছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, “গাজার উপর যে নৃশংসতা চলছে, তাকে আমরা গভীর ধর্মীয়, নৈতিক ও মানবিক দায়বদ্ধতা হিসেবে অনুভব করছি।” বিশেষভাবে, তারা গাজার কঠোর অবরোধের ফলে অনাহার ও তৃষ্ণা সৃষ্টির বিষয়টিকে ’কোনো মানবিক অনুভূতি সম্পন্ন মানুষ” মেনে নিতে পারে না বলে উল্লেখ করেছে।
ইয়েমেনি বাহিনী আরও ঘোষণা করেছে, তারা সামরিক সহায়তা অভিযান আরও বৃদ্ধি করবে এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের চতুর্থ ধাপ বাস্তবায়ন করবে। এই ধাপে, যেকোনো কোম্পানির জাহাজ, যেগুলো ইসরাইলি বন্দরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, যদি ইয়েমেনি বাহিনীর আওতাভুক্ত এলাকা বা সক্ষমতার মধ্যে থাকে, তাহলে সেগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।
তারা সব কোম্পানিকে সতর্ক করেছে, যাতে তারা অবিলম্বে ইসরায়েলি বন্দরের সঙ্গে সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়, অন্যথায়, ইয়েমেনি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের আঘাত থেকে রক্ষা পাবে না।
বিশ্বের দেশগুলোকে আবারও আহ্বান জানিয়ে, ইয়েমেনি বাহিনী বলেছে, “যেন তারা হস্তক্ষেপ করে এবং এই সংঘাত বিস্তারের আগে তা রোধ করে।” একই সঙ্গে তারা ইসরাইলের ওপর চাপ সৃষ্টি করার আহ্বান জানিয়েছে, যেন গাজায় আগ্রাসন বন্ধ করা হয় এবং অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এই পৃথিবীতে কোনো স্বাধীন বিবেকবান মানুষ এমন অন্যায় মেনে নিতে পারে না। তারা জানায়, ইসরায়েল যদি গাজায় আগ্রাসন বন্ধ করে এবং অবরোধ তুলে নেয়, তাহলে ইয়েমেনি বাহিনী সব সামরিক অভিযান তৎক্ষণাৎ বন্ধ করবে।
ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনী গাজার চলমান আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে আরব, ইসলামী এবং আন্তর্জাতিক সমাজের ‘লজ্জাজনক নীরবতাকেই’ এর জন্য দায়ী করেছে।
উল্লেখ্য, গাজায় সংঘাত শুরুর পর থেকে ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনী একাধিকবার ইসরাইলগামী জাহাজে হামলা চালিয়েছে এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে দখলকৃত ফিলিস্তিনের অভ্যন্তরে গভীর লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।
সূত্র: মেহের নিউজ
খবরওয়ালা/আরডি