খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৯ এপ্রিল ২০২৫
ঈদুল ফিতরের ছুটিতে (২৮ মার্চ-৫ এপ্রিল) ৯৯৯-এ আসা ফোনের মধ্যে ভুয়া ফোনকল ছিল ১ লাখ ১৮ হাজার ৪১৬টি। জাতীয় জরুরি সেবা থেকে পাওয়া কলের তালিকা বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া যায়।
৯ দিনের ছুটিতে জরুরী সেবা পেতে ৯৯৯-এ ফোন আসে মোট দুই লাখ ৪০ হাজারের বেশি। এর মধ্যে ভুয়া ফোনকল আসে এক লাখ ১৮ হাজার ৪১৬টি। এসব ফোনকলে সবচেয়ে বেশি ছিল মারামারি-সংঘর্ষ সংক্রান্ত। এছাড়া মাইক বাজিয়ে উচ্চশব্দ সৃষ্টি করা, হামলা ও দুর্ঘটনা এবং নারী নির্যাতনের কল ছিল বেশি। ৯৯৯ সংশ্লিষ্ট নয় এমন কলের সংখ্যাও কম ছিল না।
৯ দিনে যেসব অভিযোগে কল
১০টি প্রধান সমস্যার তথ্য জানিয়ে ঈদের ছুটির ৯ দিনে মোট কল আসে দুই লাখ ৪০ হাজার ৬৯৩টি। এর মধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মারামারি সংক্রান্ত কারণে ফোন আসে ৩৭৬৮টি, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ফোনকল আসে শব্দদূষণের প্রতিকার চেয়ে ১২৩৩টি। এছাড়া অগ্নিকাণ্ড সংক্রান্ত কল ১২২২টি, জরুরি চিকিৎসাসেবা সংক্রান্ত কল ৯৪৪টি, অবরুদ্ধ বা জোর করে আটকে রাখা সংক্রান্ত কল ৯০৩টি, সন্ত্রাসীমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কল ৭৭৮টি, নারী নির্যাতনের প্রতিকার রোধে কল ৭৩৭টি, ঈদে বাড়ি ফেরা ও দুর্ঘটনা সংক্রান্ত কল ৫৭১টি, ঈদে চুরি সংক্রান্ত কল ৫৩৩টি এবং ঈদে জমাজমি দখল সংক্রান্ত ৫০০টি কল পায় জাতীয় জরুরি সেবা।
ঈদের ছুটির ৯ দিনে যত কল
২৮ মার্চ মোট ফোনকলের সংখ্যা ২৮ হাজার ৬৮টি, ২৯ মার্চ ২৭ হাজার ৮০৮টি, ৩০ মার্চ ২৫ হাজার ৭৫৫টি, ৩১ মার্চ ২৩ হাজার ৪৯৮টি, ১ এপ্রিল ২৫ হাজার ৬৫২টি, ২ এপ্রিল ২৬ হাজার ৮১টি, ৩ এপ্রিল ২৮ হাজার ৪৬০টি, ৪ এপ্রিল মোট ২৭ হাজার ৩৮০টি এবং ছুটির সর্বশেষ দিন ৫ এপ্রিল মোট ফোন কলের সংখ্যা ছিল ২৭ হাজার ৯৯১টি।
ভুয়া কল লক্ষাধিক
৯৯৯-এ মানুষ মূলত সেবা নেওয়ার জন্যই ফোন করে। তবে একদল দুষ্টু লোক এখনো ৯৯৯-এ মিসড কল কিংবা হাসি-তামাশার জন্য কল করেন। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কাজ করছে পুলিশ। এবার ঈদে এমন কলের সংখ্যাও কম নয়। অনেক সময় কল করে অপর প্রান্ত থেকে কথা বলা হয় না, গান শোনানো হয় কিংবা হাসি-তামাশা করা হয়। ঈদের ছুটিতে এমন ফোনকলের সংখ্যা এক লাখ ১৮ হাজার ৪১৬টি।
জাতীয় জরুরি সেবার পরিদর্শক (ট্রেইনার, ফোকাল পারসন অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স) আনোয়ার সাত্তার জাগো নিউজকে বলেন, ‘ঈদের ছুটির মধ্যে জাতীয় জরুরি সেবার মাধ্যমে নাগরিকদের চাহিদা অনুযায়ী জরুরি সেবা সরবরাহ করা হয়েছে। ঈদে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ছুটি থাকলেও জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কোনো ছুটি থাকে না। রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করতে হয়। এবার বিভিন্ন সহায়তার জন্য ফোনকল আসে দুই লাখ ৪০ হাজার ৬৯৩টি।’
তিনি বলেন, ‘প্রতি মুহূর্তে আমাদের ১০০টি কল রিসিভ করার সক্ষমতা রয়েছে। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্স সংক্রান্ত সেবা দেওয়ার পাশাপাশি চাহিদা অনুযায়ী অন্য জরুরি সেবাও দিয়েছে ৯৯৯। এবার ঈদে জরুরি সেবা প্রদান যোগ্য ফোনকলের সংখ্যা ৪৬ শতাংশ এবং সেবা প্রদান যোগ্য নয় এমন ফোনকলের সংখ্যা ছিল ৫৬ শতাংশ। আগের তুলনায় মানুষ এখন ৯৯৯ থেকে জরুরি সেবা বেশি নিচ্ছে।’
যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া কোনো ব্যক্তিকে ফোন করে বিরক্ত করলে তার শাস্তির বিধান রয়েছে আইনে। এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়ার কথা বলা আছে।
জানা যায়, ২০২১ সালের ১ জুলাই বিরক্ত করা কলের জন্য দণ্ডের বিধান রেখে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন ২০০১ এর ধারা ৭০ (১) সংশোধন করা হয়। এই আইনে যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া কল দিলে এক লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড হতে পারে। এমনকি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমেও বিরক্তিকর কলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
সেবামূলক এ সংস্থার প্রধান হিসেবে আছেন একজন উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি)। এছাড়া আছেন একজন পুলিশ সুপার, ৩ জন সহকারী পুলিশ সুপার, ৩৫ জন পরিদর্শক, ২৬ জন উপ-পরিদর্শক (এসআই), ৩৪ জন সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) এবং ৩২৩ জন কনস্টেবল। এর মধ্যে ৬৩ জন নারী। এছাড়া ফায়ার সার্ভিসের আট ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ছয়জন কর্মরত ৯৯৯-এ।
সূত্র: জাগো নিউজ
খবরওয়ালা/এমইউ