খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৪
মোশারফ হোসেন ॥কুমারখালী সরকারি কলেজে ছাত্রদের দাবির মুখে পদত্যাগ করলেন উপাধ্যক্ষ। কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলার সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ বিনয় সরকার বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের দাবির মুখে তার পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। গতকাল বুধবার (২৮ আগস্ট) তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমারখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মোল্লা মোঃ রুহুল আমিন। তিনি বলেন ‘আমাদের কলেজের উপাধ্যক্ষ পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। আমি পদত্যাগপত্রটি পেয়েছি।
পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘আমি উপাধ্যক্ষ পদ হতে পদত্যাগ করলাম। গতকাল বুধবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে কলেজ চলাকালীন সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র সংগঠনের একদল শিক্ষার্থী কলেজের অফিস কক্ষে অবরোধ করে উপাধ্যক্ষ বিনয় সরকারের পদত্যাগের দাবি তুলেন। দীর্ঘ এক ঘণ্টা পর অবশেষে নিজে পদত্যাগ পত্রে স্বাক্ষর করে অধ্যক্ষ কাছে জমা দেন। পরে ছাত্ররা অবরোধ তুলে নিয়ে চলে যান।
জানা গেছে, ৪ আগষ্ট কুমারখালী বাসস্টান্ড এলাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারী ছাত্র জনতার এক দফা দাবির মিছিলের বিরুদ্ধে গিয়ে উপাধ্যক্ষ বিনয় সরকার পুলিশ ও আওয়ামী লীগের পক্ষ নেন। এরপর ৫ আগষ্ট বিজয়ের পর বিনয় সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্র জনতা অবস্থান নেয়। ছাত্র জনতার অবস্থান রুঁখে দিতে তিনি কথিত এক সমন্বয়ককে ১৫ হাজার টাকা চাঁদা দেন। চাঁদা দেওয়ার একটি অডিও সম্প্রতি ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

এসব নিয়ে তার বিরুদ্ধে গতকাল বুধবার সকালে অন্তত ৩০ জন ছাত্র অধ্যক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিতে যায়। সেসময় অধ্যক্ষের কক্ষে উপাধ্যক্ষ বিনয় সরকার উপস্থিত ছিলেন। এক পর্যায়ে ছাত্ররা উপাধ্যক্ষ পদ থেকে পদত্যাগের দাবি তুলে তাকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করতে থাকেন। তখন ছাত্রদের তোপের মুখে সাদা কাগজে পদত্যাগ লিখে তা অধ্যক্ষের কাছে জমা দেন তিনি। কলেজ সুত্রে জানা যায়, ২০১১ সাল থেকে বিনয় সরকার কলেজের উপাধ্যক্ষের দাঁয়িত্ব পালন করে আসছেন।
তার মধ্যে ২০২১ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দাঁয়িত্বে ছিলেন তিনি। তোপের মুখে নয়, বরং স্বেচ্ছায় উপাধ্যক্ষ পদত্যাগ করেছেন বলে নাম প্রকাশ না করা শর্তে জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের এক ছাত্র। তিনি জানান, উপাধ্যক্ষ বিনয় কুমার ৪ আগষ্ট ছাত্র জনতার বিরুদ্ধে অবস্থান করেছিলেন। বিজয়ের ছাত্ররা তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। ছাত্রদের অবস্থান রুঁখে দিতে বিনয় সরকার একজনকে ১৫ হাজার টাকা চাঁদা দিয়েছেন।

বিষয়টি ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। সেজন্য আজ তারা বিনয় কুমারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অধ্যক্ষের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ছাত্রদের সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সদ্য পদত্যাগ করা উপাধ্যক্ষ বিনয় সরকার। তিনি জানান, আন্দোলন করতে নয়, ৪ আগষ্ট তিনি ব্যাংকে টাকা তুলতে গিয়ে আন্দোলনের মধ্যে পড়েছিলেন। সাদা কাগজে লিখে পদত্যাগের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, কিভাবে কি হলো? এসব নিয়ে কথা বলতে চাননা। চাঁদা প্রদানের অডিও ফাঁসের বিষয়ে তিনি জানান, চাঁদা নয়, ছাত্রদের রং তুলি কিনতে তিনি এক হাজার ৫০০ টাকা দিয়েছিলেন।
আরও দেখুন: