কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে বাস ও ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হওয়ার পর রেলমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ নিহতদের পরিবারের জন্য প্রাথমিক ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছেন। রোববার দুপুর ১২টার দিকে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে তিনি জানান, রেল কর্তৃপক্ষ নিহত প্রতিটি পরিবারের জন্য এক লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, “যাঁরা এই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন, তাঁদের পরিবারকে এক লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। এছাড়া কুমিল্লা জেলা প্রশাসন নিহতদের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা এবং আহতদেরকে ১৫ হাজার টাকা করে প্রদান করবে। আহতদের চিকিৎসার সকল খরচ সরকার বহন করবে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাদের ঢাকায় চিকিৎসার প্রয়োজন, তাদের যথাযথ সহায়তা নিশ্চিত করতে।”
দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন রেলমন্ত্রী। তিনি বলেন, “যেসব রেলক্রসিং অরক্ষিত রয়েছে, সেগুলোকে ধীরে ধীরে ওভারপাস বা আন্ডারপাসের মাধ্যমে নিরাপদ করা হবে। ইতিমধ্যে রেল কর্তৃপক্ষ দুইজনের গাফিলতির জন্য তাদের বরখাস্ত করেছে।”
এর আগে, সকাল ১১টার দিকে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, খাদ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ। তিনি বলেন, “সম্ভবত রেলগেটটি খোলা ছিল, যার কারণে ড্রাইভার ট্রেনলাইনে প্রবেশ করেছিলেন। দুর্ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে ঘটেছে।” মন্ত্রী নিহতদের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন, যাতে অন্তত লাশসমূহ দ্রুত পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়।
নিহত ও আহতদের ক্ষতিপূরণ তালিকা
| শ্রেণি |
ক্ষতিপূরণ (টাকা) |
প্রদানকারী |
| নিহতের পরিবার |
১,০০,০০০ |
রেল কর্তৃপক্ষ |
| নিহতের পরিবার |
২৫,০০০ |
কুমিল্লা জেলা প্রশাসন |
| আহত ব্যক্তি |
১৫,০০০ |
কুমিল্লা জেলা প্রশাসন |
| চিকিৎসা খরচ |
সম্পূর্ণ সরকারি |
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় |
দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে, রেল মন্ত্রণালয় অরক্ষিত ক্রসিংগুলো দ্রুত নিরাপদ করার পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি, গাফিলতির জন্য দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হচ্ছে। এই ঘটনায় পুরো জেলা ও দেশের সাধারণ মানুষ গভীর শোকাহত।
দুর্ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ড্রাইভার অরক্ষিত ক্রসিং পার হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এই প্রাথমিক তথ্য অনুসারে, যথাযথ সতর্কতা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনাটি আবারও জাতীয় নিরাপত্তা ও রেলপথ ব্যবস্থার উন্নতির গুরুত্ব তুলে ধরেছে, যেখানে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধ করা হবে।